
কলকাতা: চার মাস ধরে ভাতা আটকে পুরসভার শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকাদের। ভাতা না পেয়ে ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোচ্ছে’ কর্মীদের। সাম্মানিক মাত্র ১০ হাজার টাকা। সেটাও বিগত মাস ধরে আটকে রয়েছে! সর্বশিক্ষা মিশনের বেহাল ছবি ফুটে উঠল রাজ্যে।
শিশু শিক্ষা কেন্দ্রগুলি পুরসভা ও পঞ্চায়েতের অধীনে। দুটি ক্ষেত্রেই শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের কর্মী ও সহায়কদের সাম্মানিক অতি সামান্য। সেই ভাতাও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ, রাজ্য বনাম কেন্দ্রের সংঘাতের কারণেই টাকা আটকে রয়েছে। মাশুল গুনতে হচ্ছে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের কর্মী ও সহায়কদের।
রাজ্যের দাবি, কেন্দ্র সমগ্র শিক্ষা মিশনের একটা বড় অঙ্কের টাকা আটকে রাখায় সমস্যা হচ্ছে। সেই কারণে এদের ভাতা দেওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্র আবার আঙুল তুলছে রাজ্যের দুর্নীতির দিকে। মাঝখানে কোপ পড়েছে ন্যূনতম ভাতাতেও।
প্রত্যেক বছর সামান্য ৩ শতাংশ করে বেতন বাড়ে এসএসকে ও এমএসকে শিক্ষকদের। অবসরকালীন টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও, তা মেলে না পুরসভার শিক্ষকদের। অন্যদিকে, পঞ্চায়েতের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে বাৎসরিক বেতন বাড়লেও, তা থেকে পিছিয়ে বা বাদ পড়েন পুরসভার শিক্ষকরা।
কর্মীরা বলছেন, শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছয় না সরকারের বিনামূল্য়ের জামা-জুতোও। এমনকী, শিশুদের বই-খাতাও সময়মতো পৌঁছয় না।
উত্তর দমদম শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের এক কর্মী বলেন, “বেতনটা অনেকই কম। যদি বেতন একটু বেশি হত, তাহলে খুব সুবিধা হত। কারণ হাইস্কুলের মতোই পঠন-পাঠন হয়, কিন্তু বেতন অনেক কম। পেনশনের টাকা পাওয়ার কথা, সেটাও পাই না। আমরা এটা নিয়ে আন্দোলন করছি। অনেকেই আগে রিটায়ার করেছেন, কিন্তু তারা খালি হাতেই অবসর নিয়েছেন।”
আরেক কর্মী বলেন, “শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে প্রাইমারি স্কুলের থেকেও বেশি পড়ুয়া ছিল। কিন্তু প্রাইমারি স্কুলের মতো এখানে জামা-জুতো পাওয়া যায় না। এই কারণে বাচ্চাদের ভর্তি করাচ্ছে না। প্রতি বছর ৫-৭ জন করে পড়ুয়া কমে যাচ্ছে।”
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার কয়েক হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে। এই যে সর্ব শিক্ষার কর্মীরা, তাদের বেতন বাড়ানোর কথা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, কিন্তু যতক্ষণ কেন্দ্রীয় সরকার ওদের নায্য টাকা ছাড়ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা টাকা বাড়ানো যাচ্ছে না।”