
নয়া দিল্লি: বাংলায় এবার এসআইআর-এর নথি যাচাইয়ে ওড়িশা-ঝাড়খণ্ড থেকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি জে. ভিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ। এদিনের শুনানিতে উঠে আসে বাংলার আধার-জালিয়াতির অভিযোগ প্রসঙ্গও। জনস্বার্থ মামলাকারীর আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় মূলত এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন বলে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ। এই প্রসঙ্গে শুনানি পর্বের শেষে TV9 বাংলার এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি এদিন ফর্ম ৬ চ্যালেঞ্জ করতে চলেছেন। কিন্তু কেন? তাঁর বক্তব্য, ফর্ম ৬-এ একটা বড় ধরনের টেকনিক্যাল গলদ রয়েছে, যা এতদিন কেন্দ্র ঠিক করেনি।
ফর্ম ৬ এ ‘গলদ’ কোথায়?
আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় বলেন, “আমি ফর্ম ৬-কে চ্যালেঞ্জ করতে চলেছি। ফর্ম ৬-এ একটা বিশাল বড় ব্লান্ডার হয়েছে। যেটা এখনও পর্যন্ত ঠিক করা হয়নি। আধার অ্যাক্ট তো বলেই দিয়েছে, যে আধার বার্থ সার্টিফিকেট নয়। কিন্তু ফর্ম ৬-এ বলা রয়েছে, আধার বার্থ সার্টিফিকেট হিসাবে নেওয়া যেতে পারে। কারণ ফর্ম ৬ প্রচণ্ড গন্ডগোলের। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার এখনও ফর্ম ৬-কে বদলায়নি।”
ফর্ম ৬ কী?
ফর্ম ৬ হল নতুন ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদনপত্র। যে ব্যক্তি আগে ভোটার তালিকায় নাম তুলেননি বা অন্য এলাকা থেকে এসে নতুন কেন্দ্রে ভোটার হতে চান, তিনি এই ফর্ম পূরণ করেন।
নতুন ভোটার যুক্ত করা: ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া নাগরিকরা ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেন।
ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে: অন্য বিধানসভা/বুথে চলে গেলে নতুন এলাকায় নাম তোলার জন্য এটি ব্যবহার হয়।
তালিকা সংশোধন: এসআইআর চলাকালীন নির্বাচন কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করে।
আইনি স্বীকৃতি: এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করে Election Commission of India-এর অধীন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা।
ফর্ম ৬ এ আধার কার্ডের ভূমিকা
পরিচয় যাচাই সহজ করা – আবেদনকারীর তথ্য দ্রুত মিলিয়ে দেখা যায়
ডুপ্লিকেট নাম আটকানো – একই ব্যক্তির একাধিক ভোটার আইডি যেন না হয়
তথ্য সঠিক রাখা – নাম, জন্মতারিখ ইত্যাদি মিলিয়ে নেওয়া যায়
আর ঠিক এখানেই গলদ রয়েছে! তেমনই দাবি আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের। তিনি এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনতে চলেছেন।