
কলকাতা: আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পরেই গোটা বিশ্বে তেল এবং গ্যাস সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব। ইতিমধ্যে দেশের একাধিক শহরে ব্যাহত হতে শুরু করেছে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান। যার প্রভাব পড়েছে মূলত হোটেল, রেস্তরাঁগুলিতে। ধুঁকছে কলকাতার রেস্তোরাঁ শিল্প। কলকাতার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইতিমধ্যে গ্যাসের কালোবাজারি শুরু হয়ে গিছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতির বদল না হলে হোটেল রেস্তরাঁয় তালা ঝোলানো ছাড়া উপায় নেই বলেই আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
ইতিমধ্যেই ভূতের রাজা দিল বর গোষ্ঠীর রেস্তোরাঁ পোস্ত পাটুলি এলপিজি সঙ্কটের জেরে সাময়িক বন্ধের নোটিস দিয়েছে। এই ব্র্যান্ডের ৪৬টি রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে দৈনিক ১০০টি সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। গত দু’দিন সিলিন্ডার সরবরাহ হয়নি। এখন মাত্র ২০টি সিলিন্ডার গুদামে আছে, যা দিয়ে আর একদিনের বেশি চলবে না। সে কারণেই পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি শাখা বন্ধ করার নোটিস ঝোলানো হয়েছে। সব শাখাই বন্ধ করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের। ইন্ডাকশন কুকার দিয়ে খাবারের পদ কমিয়ে কিছুদিন চালানো গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী নয়। ইতিমধ্যে কয়েকজন কর্মীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক না হলে ঘোর অন্ধকার পরিস্থিতির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের।
রেস্তোরাঁর ডিরেক্টর রাজীব পালও গোটা পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, “কাল থেকে গ্যাস আমাদের কাছে আর আসছে না। ইতিমধ্যেই আমাদের তিনটি শাখা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আমাদের ডিট্রিবিউটরও সাফ বলে দিয়েছে এই মুহূর্তে গ্যাস আর সরবরাহ করা যাবে না।”
কলকাতা ছাড়াও দেশের আরও তিন প্রধান শহর মুম্বই, দিল্লি, চেন্নাইতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। একই ছবি বেঙ্গালুরুতেও। সব শহরেই গ্যাসের অভাবে হোটেল ব্যবসা কার্যত লাঠে ওঠার জোগার। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ে ২০ শতাংশ রেস্তোরাঁয় ঝাঁপ বন্ধ। প্রভাব পড়ছে ফুড ডেলিভারিতেও। ২ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ হোটেল বন্ধের আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে চিঠি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।