
কলকাতা: রাত পোহালে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ। তার আগের দিনও ভোট প্রচারের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে বালিগঞ্জের ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট প্রচারের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে সিপিএম। এমনকী, সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগমের নামে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
কী কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে আফরিনকে?
আফরিন বলেন, “ওয়াকার আজম নামে তৃণমূল কর্মী আমার নামে ব্যক্তি কুৎসা রটাচ্ছে সংখ্যালঘু ওয়ার্ডগুলিতে। আমার বয়সকে কেন্দ্র করে একাধিক আক্রমণ করছে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী গতকালই ৫টার পর থেকে প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূল মাইক নিয়ে এই প্রচার চালাতে পারে ? পুলিশ কেন কোনও কথা বলছে না? আমি মনে করি এটার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হোক।”
মাইক হাতে ঠিক কী বলছিলেন ওই তৃণমূল কর্মী?
দেখা যাচ্ছে একটি সংখ্যালঘু অঞ্চলে মাইক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ওয়াকার আজম। তিনি বলছেন, “ওরা বলছে আফরিনের কম বয়স, নতুন প্রজন্ম ভোট দিন। কিন্তু নির্বাচনে লড়াই করার জন্য কাজ দেখতে হয়,বয়স নয়। আর যদি সুন্দরী যুবতী হয় তাহলে বিয়ে দিয়ে দিন। নির্বাচনে লড়াই করতে পাঠাবেন না। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়কে এই কেন্দ্রে দাঁড় করিয়েছেন। যার অভিজ্ঞতা প্রচুর।” ঠিক এই ধরনের মন্তব্যের জন্যই ক্ষুব্ধ সিপিএম প্রার্থী। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করেছে তারা।
এখানে উল্লেখ্য, আফরিন বেগম সিপিএম অন্যতম নতুন যুব মুখ। তিনি বাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও ততটা পরিচিতি পাননি। তবে, এবারের ভোটে প্রার্থী হওয়ার আগেই মহম্মদ সেলিম ও শমীক লাহিড়ীর সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মুখোমুখি হয়ে নজর কাড়েন। এসআইআরে বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি । তখন থেকেই শুরু হয়েছিল আফরিনকে নিয়ে গুঞ্জন। কে তিনি, কী করেন, কী পরিচয় ইত্যাদি ইত্যাদি। পরে দেখা গেল, তৃণমূলের প্রবীণ তথা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যুব মুখ আফরিনের উপরই ভরসা রেখেছেন বাম নেতৃত্ব।