Trinamool Congress: একাই ৮ পদে বাবুন, IFA-তে অরূপ! ফিরহাদ থেকে সুজিত কে নেই, ‘মধুর ভাণ্ডারের’ লোভে খেলার মাঠে TMC নেতারা?
TMC Sports Politics: এতদিন এভাবেই চলেছে রাজ্যের একাধিক ক্রীড়া সংস্থা। কিন্তু নতুন রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় ক্রীড়া নীতির হাত ধরতেই সাফাই অভিযান শুরু। জাতীয় সংস্থার নিয়ম মেনে হবে বেঙ্গল অলিম্পিং অ্যাসোশিয়েশনের নির্বাচন। বর্তমানে বিওএ-র সচিব জহর দাস বলছেন, ৩১ ডিসেম্বর ফর্মুলা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। তারপরই স্বচ্ছ বিওএ হবে।

কলকাতা: নিজের দলে এক ব্যক্তি এক পদ প্রথা চালু করার চেষ্টা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর কাকা-জ্যাঠারা যে রাজ্যের একের পর এক ক্রীড়া সংস্থার পদ আলো করে বসেছিলেন সে খবর কী বন্দ্যোপাধ্য়ায় বাড়িতে ছিল? রাজ্যে পালাবদল হতেই স্বপন ওরফে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়, অজিত বন্দ্য়োপাধ্যায়দের পদ নিয়ে টানাটানি শুরু।
সালটা তখন ২০২০। ডিসেম্বর মাসে কলকাতা ময়দান উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দুই ভাইয়ের লড়াইয়ে। কে হবেন বেঙ্গল অলিম্পিং অ্যাসোসিয়েশনের সচিব? জমে উঠেছিল স্বপন বনাম অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই ভাই রাজ্যের একাধিক ক্রীড়া সংস্থায় দাপিয়ে বেরিয়েছেন। বিশেষ স্বপন ওরফে বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাপট দেখার মতো। তালিকা দেখলে চোখ রীতিমতো কপালে উঠবে।
একাই আটটি পদে বাবুন
বেঙ্গল স্টেট টেবিল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি থেকে পশ্চিমবঙ্গ প্রগ্রেসিভ বক্সি অ্যাসোসিয়েশনের সচিব, পশ্চিমবঙ্গ হ্যান্ডবল সংস্থার সভাপতি, পশ্চিমবঙ্গ অ্য়ামেচার কাবাডি সংস্থার সচিব, বডি বিল্ডিং অ্যান্ড ফিজিকস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ক্যালকাটা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশনের অফ বেঙ্গলের চিফ অ্যাডভাইজার। পাশাপাশি মোহনবাগান ক্লাবের ফুটবল সচিব। একাই আটটি পদে রয়েছেন বাবুন।
রাজ্যের অ্য়ামেচার বক্সিং ফেডারেশনের সচিব সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে একসময় রাজ্যের বক্সিং ফেডারেশনটাকেই ভেঙেছিলেন বাবুন। কেড়ে নিয়েছিলেন সংস্থার অ্যাফিলিয়েশনটাও। তাঁর সাফ কথা, প্রগ্রেসিভ বক্সিং তো রাতারাতি করেছে। আমাদের তো বেঙ্গল অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশন। আমাদের অ্যাকাউন্টে চার লাখ টাকা ছিল, সব তুলে নিয়েছে। প্রত্যেক বছর ৫ লাখ টাকা করে আসে। কোনও হিসেব দিতে পারবে ও?
বেঙ্গল স্টেট টেবিল টেনিসের কর্তা রঙ্গন মজুমদারের কথায় আবার আর্থিক দুর্নীতির ক্লু। তিনি বলছেন, তিনি তো সংস্থার খরচ দিয়ে নিজের খরচা তুলেছেন। তাঁর সঙ্গে যাঁরা আমন্ত্রিত হয়ে কোথাও যেতেন সেই খরচও তুলে নিতেন।
এতদিন এভাবেই চলেছে রাজ্যের একাধিক ক্রীড়া সংস্থা। কিন্তু নতুন রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় ক্রীড়া নীতির হাত ধরতেই সাফাই অভিযান শুরু। জাতীয় সংস্থার নিয়ম মেনে হবে বেঙ্গল অলিম্পিং অ্যাসোশিয়েশনের নির্বাচন। বর্তমানে বিওএ-র সচিব জহর দাস বলছেন, ৩১ ডিসেম্বর ফর্মুলা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। তারপরই স্বচ্ছ বিওএ হবে।
দায়িত্বে স্বরূপ বিশ্বাস থেকে ফিরহাদ-সুজিতও
তবে শুধু বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তাঁর দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও তিনটি সংস্থার পদে। আইএফএ সভাপতি, বেঙ্গল অলিম্পিং অ্যাসোসিয়েশনের চিফ অ্যাডভাইজার, পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ওয়েটলিফটিং অ্যাসোসিয়েশনের চিফ পেট্রন। বেঙ্গল হকি সংস্থার পদে আছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। দেবাশিষ কুমার আছেন বেঙ্গল অ্যামেচার সুইমিং অ্যাসোশিয়নের সভাপতির পদে। রাজ্যে ভলিবল সংস্থার সভাপতি ফিরহাদ হাকিম। আইএফএ-সহ সভাপতির পদে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। অভিযোগ, তৃণমূলের রাজনীতির হাত ধরে ঘু ঘু-র বাসা তৈরি হয়েছে রাজ্যের খেলার মাঠে। ক্রীড়া মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক সাফ বলেছেন, “আমরা খেলার মাঠে কোনওরকম রাজনীতির ছোঁয়া থাকতে দেব না। ক্রীড়াঙ্গনগুলি যেভাবে রাজনীতি মুক্ত হবে তেমনই স্পোটর্স অ্যাসোসিয়েশন-ফেডারেশনগুলিকেও একইভাবে রাজনীতি মুক্ত ও পরিবারবাদ মুক্ত করা হবে।”
