Mamata And Abhishek: অভিষেকের অনুরোধ, অবশেষে ধরনা তুলে নিলেন মমতা

Mamata Banerjee: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও আসছেন ধরনা মঞ্চে। সোমবারই মুখ্যমন্ত্রীকে অভিষেক অনুরোধ করেছিলেন যাতে তিনি নিজের খেয়াল রাখেন। আর মঙ্গলে 'দিদি'-র স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই কর্মসূচি সমাপ্ত করার অনুরোধ করেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানান লড়াই জারি থাকবে।

Mamata And Abhishek: অভিষেকের অনুরোধ, অবশেষে ধরনা তুলে নিলেন মমতা
অভিষেক ও মমতাImage Credit source: Facebook

Mar 10, 2026 | 7:46 PM

কলকাতা: সেই শুক্রবার থেকে এসআইআর-এর প্রতিবাদে ধরনা চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নেতৃত্বাধীন দল। একটানা অবস্থান মঞ্চেই বসে রয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূলের বাকি বিধায়ক সাংসদ নেতা-কর্মী সকলে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও আসছেন ধরনা মঞ্চে। সোমবারই মুখ্যমন্ত্রীকে অভিষেক অনুরোধ করেছিলেন যাতে তিনি নিজের খেয়াল রাখেন। আর মঙ্গলে ‘দিদি’-র স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই কর্মসূচি সমাপ্ত করার অনুরোধ করেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানান লড়াই জারি থাকবে। এরপরই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন মমতা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে আর্জি জানান, “দিদি আজ আপনার দাবিকে সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা দিয়েছে। এটাই আপনার লড়াই এর জয়। আপনার শরীর সুস্থ রাখতে হবে। সবার কাছে পৌঁছতে হবে। দলনেত্রীকে অনুরোধ করব, আমি সবার হয়ে দিদিকে অনুরোধ করব, পাঁচ দিন রাস্তায় বসে রয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার ল্যাজ গুটিয়ে পালিয়েছেন। তাই আপনি আজ এই কর্মসূচি সমাপ্ত করুন। ৮০ হাজার বুথে ওদেরকে নিঃস্ব করতে হবে।”

এরপর মুখ্যমন্ত্রী মাইক হাতে নিজে বক্তব্য রাখেন। কী কী বললেন এক নজরে

সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল কেস: বেআইনিভাবে নাম ডিলিট করেছে। তারা যাতে বিচার পায় তাদের জন্য ধরনা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মিসলিড করেছে। বিচারকদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। আমরা এতক্ষণ আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। নির্বাচন ঘোষণা হলেও সুপ্রিম কোর্টের হাত কেস থাকবে। এটা স্পেশাল কেস। বাংলার জন্য বিশেষ কেস।

‘ট্রাইবুনালে আপিল করতে পারবেন’: যাঁদের নাম বাদ গেছে তাঁরা ট্রাইবুনালে আপিল করতে পারবেন। যে দরজা বন্ধ হয়েছে সেটা সর্বোচ্চ আদালত খুলে দিয়েছে, এটা মানুষের জয়। নির্বাচন ঘোষণা করলেও ভাববেন না আপনার নাম নেই, যদি আপনার সঙ্গে অবিচার হয় তাহলে তৃণমূলের কাছে আসবেন আমরা স্পেশাল কেস হিসাবে ট্রিট করব। যদিও, ২৫ তারিখ শুনানির ডেট দিয়েছে। তবে ১৫ বা ১৬ তারিখ ভোট ঘোষণা করলেও খেলা সুপ্রিম কোর্টের হাতে রয়ে গেল। অর্থাৎ আমরা ওয়াচ করব, আমরা দেখব। আমাদের পিটিশন অনুযায়ী অর্ডার হয়েছে।

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অর্ডার দেওয়া আছে তিনিই ট্রাইবুনাল বানাবেন। আমাদের বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা আছে।

বিজেপিকে সন্তুষ্ট করতে কমিশন বিচারকদের মিসলিড করেছে। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে ভর্ৎসনা করেছে। আমায় আইনজীবীরা বলেছেন, আপনারা নির্বাচন কমিশন এত কাণ্ড করেছেন, সুতরাং বাংলার কেসটা স্পেশাল কেস হিসাবে দেখব। তাই মনে রাখতে হবে, আমাদের যাতে যাঁর যাঁর নাম বিচারাধীন রয়েছে তাঁদেরটা দেখতে হবে। আর যাঁদের ডিলিট করেছে তাঁরাও ট্রাইবুনালে যেতে পারেন। অন্য দলের কর্মীরাও সাহায্য চাইলে আমরা করে দেব।

‘তেলকড়ি মাখাতে হবে না’: ওদের অনেক এমপি-রা বসে আছেন। ওরা দামি হোটেল ভাড়া করে বসে আছে। গ্যাসের দাম বাড়ছে চিন্তা সেদিকে চিন্তা নেই, বলছে যুদ্ধের জন্য বাড়ছে। রাশিয়া থেকে তেল আনবে, তেলকড়ি মাখাতে হবে না? প্রতিদিন মিথ্যা বলে।

বিজেপিকে আক্রমণ: ওদের দল চার্জশিট বানাচ্ছে। আগে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট আনুক এই কয়েক বছরে কী করেছে। একটা লেংড়ে চলা সরকারের এত কথা আসে কী করে? আপকি বার ৪০০ পার? মানুষ পগাড়পার করে দিয়েছে। এরা থাকলে গণতন্ত্র-বিচার সব শেষ।

গ্যাসের দাম নিয়ে সরব: আবার বলছে পঁচিশ দিন আগে গ্যাস পাবেন না। তাহলে যার গ্যাস ফুরিয়েছে তাঁরা কী করবেন? আগামী দিন বড়ই ভয়ঙ্কর। এমনিতেই লক্ষ কোটি টাকার উপর দেনা রয়েছে। আগামীতে কী হবে কেউ জানে না।

কমিশনকে আক্রমণ: ডাল মে কালা না থাকলে রাজ্যপাল কেন বদলাত? আমি সময় থাকলে সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের উত্তর দিই। আজ কমিশন সাংবাদিকদের প্রশ্নের কেন উত্তর দেননি? আসলে বিজেপি উত্তর ঠিক করে দেয়নি। আমি নিজে পিটিশন করেছিলাম। সাধারণ মানুষ হয়ে করেছিলাম।

অর্ডারে সব বলা থাকে না। ভিডিয়োতে দেখতে পাবেন। ২৫ তারিখ ফের শুনানির ডেট আছে। ব্রিগেডের পর নির্বাচন ঘোষণা করলেও চিন্তা করবেন না।

এখানে অনেক ব্যবসায়ী আছে। এই কদিন আপনাদের ব্যস্ত করেছি। আপনাদের কখনও কখনও কান ঝালাপালা হয়েছে, আমারও হয়েছে বিভিন্ন শব্দে।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: আমি এখানে ছাব্বিশ দিন অনশন করে গিয়েছি। সিঙ্গুরের ব্যাপারে পণ করে। দেখুন কীভাবে ইতিহাস মিলিয়ে দিল। সিঙ্গুরের সময় যে লোকটা জোর করে চাষীদের জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন, তাঁকেই আজ ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার, না কী একটা পোস্ট দিয়ে পাঠিয়েছে। আর নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর আন্দোলনের জয় যাত্রা এখান থেকেই শুরু হয়েছিল। আগামীতেও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়, দেখলাম মা কালীও সাধ দিলেন। যখন মা কালীর আশীর্বাদ পেতেও কেউ কেউ পিছলে গেল। মা কালীও আমাদের সঙ্গ দিলেন। মা মানবিকতা ভালোবাসে।

 

 

 

Follow Us