Kolkata Municipal Corporation: হোয়াটসঅ্যাপে হুইপ! ‘বাংলায় বলুন…’, কাউন্সিলরদের ‘লাইন’ বুঝিয়ে দিল তৃণমূল
Kolkata Municipal Corporation Budget: আগামী সোম এবং মঙ্গলবার বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে পুরসভায়। প্রতিবারই এমন বহু কাউন্সিলর থাকেন, যাঁরা বাজেট আলোচনায় নিজেদের বক্তৃতা করেন হিন্দি ও ইংরেজিতে। কিন্তু চলতি বছর তাঁদের প্রত্যেককেই বাংলায় ভাষণ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে শাসকদল। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতি অস্ত্রে যখন গেরুয়া শিবির তৃণমূলকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে, তখন তৃণমূল শিবিরের ব্রহ্মাস্ত্র হচ্ছে বাংলা এবং বাঙালি।

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলা ও বাঙালি অস্মিতাই শীর্ষে, তা আবার বুঝিয়ে দিল রাজ্যে শাসকদল। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্য়মে জারি হল হুইপ। বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলা বলায় আক্রান্ত হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকেরা। তাই বাংলাকেই প্রতিবাদের ভাষা করল তৃণমূল। কাউন্সিলরদের বাজেট অধিবেশনে বাংলায় বক্তৃতা করার আবেদন জানালেন কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত।
সাফ লিখলেন, “বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে শামিল হয়ে কলকাতা পুরসভার বাজেট অধিবেশনে সকল বক্তৃতা বাংলায় রাখার জন্য সদস্যদের আবেদন জানানো হল।” কিন্তু পুরসভায় শাসকদলের এমন অনেক কাউন্সিলর রয়েছেন, যাঁদের মাতৃভাষা হিন্দি কিংবা উর্দু। মুখ্য সচেতকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁদের বক্তৃতা করতে হবে বাংলায়।
আগামী সোম এবং মঙ্গলবার বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে পুরসভায়। প্রতিবারই এমন বহু কাউন্সিলর থাকেন, যাঁরা বাজেট আলোচনায় নিজেদের বক্তৃতা করেন হিন্দি ও ইংরেজিতে। কিন্তু চলতি বছর তাঁদের প্রত্যেককেই বাংলায় ভাষণ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে শাসকদল। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্নীতি অস্ত্রে যখন গেরুয়া শিবির তৃণমূলকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে, তখন তৃণমূল শিবিরের ব্রহ্মাস্ত্র হচ্ছে বাংলা এবং বাঙালি। সেই কারণেই কলকাতার মতো অভিজাত এবং রাজধানীর পুরসভায় যাবতীয় আলোচনা বাংলাতেই করার আবেদন।
সংশ্লিষ্ট আবেদনে পুরসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক আরও লিখেছেন, “সারাদেশ জুড়ে বাাংলার সংস্কৃতি আক্রান্ত। ছাড় পাচ্ছেন না বাংলার মনীষীরাও। যে বাংলার মননে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন গণ মন, যে বাংলার দীপ্ত কণ্ঠে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম, সেই বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বিজেপিশাসিত রাজ্যে হেনস্থার মুখে পড়ছে বাঙালি।” এদিন টিভি৯ বাংলাকে বাপ্পাদিত্য বলেন, “বাঙালি যে ভাবে হেনস্থার মুখে, সেই কথাকে মাথায় রেখে বাংলাকে প্রতিবাদের ভাষা করা হয়েছে। আমি আমার দলের কাউন্সিলরদের কাছেই এই আবেদন রেখেছি। সকলেই দেখেছেন শুক্রবার মেয়র বাংলাতেই বাজেটের ভাষণ পেশ করেছেন। এবার সেই পথেই অন্য কাউন্সিলররা চলবেন বলে আশা করা যায়।” কিন্তু বিজেপির মতে, মুখ্য সচেতক আসলেই মেয়রকে কটাক্ষ করেছেন। সজল ঘোষের দাবি, “দু’টো ব্যাপার হতে পারে, এক মেয়রকে কটাক্ষ করে এসব নির্দেশ দিয়েছে। দ্বিতীয় যেটা হতে পারে, যাঁরা বাংলা বলতে পারেন না, এদিকে অধিবেশনে বলার জন্য সময় চান, তাঁদের উদ্দেশ্যেও এই নির্দেশ দিয়েছে।”
