AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

WBCS Recruitment Scam: শূন্য পেয়েও কীভাবে প্রথম প্রশান্ত বর্মণ? শিউরে ওঠার মতো ‘দুর্নীতি’-র কাহিনি শোনালেন পার্থসারথি সেনগুপ্ত 

WBCS Scam Explained: প্রিলিমিনারিতে 'ডাহা ফেল' করেও কীভাবে পরের ধাপে পৌঁছলেন প্রশান্ত বর্মণ? পার্থসারথি বলেন, "৮০ হাজারের মতো ব়্যাঙ্ক ছিল। পরে পিএসসি-র তরফেই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছিল, আমরা ওকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিচ্ছি। কিন্তু, কেন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তা লেখা ছিল না।"

WBCS Recruitment Scam: শূন্য পেয়েও কীভাবে প্রথম প্রশান্ত বর্মণ? শিউরে ওঠার মতো 'দুর্নীতি'-র কাহিনি শোনালেন পার্থসারথি সেনগুপ্ত 
কী বললেন পার্থসারথি সেনগুপ্ত?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: May 22, 2026 | 11:52 PM
Share

কলকাতা: শুধু শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়নি। WBCS পরীক্ষাতেও কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তা শুনলে শিউরে উঠবেন যে কেউ। শূন্য পেয়েও নিয়োগ পরীক্ষায় যে প্রথম স্থান অধিকার করা যায়, তা দেখিয়েছে WBCS পরীক্ষা। ২০১৭ সালের WBCS পরীক্ষায় প্রশান্ত বর্মণ কীভাবে প্রথম হয়েছিলেন, সেই তথ্যই তুলে ধরলেন স্বনামধন্য সাংবাদিক পার্থসারথি সেনগুপ্ত। প্রশান্ত বর্মণ, শানু বক্সীরা কীভাবে WBCS অফিসার হয়েছেন, টিভি৯ বাংলায় তা তুলে ধরলেন তিনি।

কী বললেন সাংবাদিক পার্থসারথি সেনগুপ্ত?

টিভি৯ বাংলাকে পার্থসারথি সেনগুপ্ত বলেন, “WBCS-এ নম্বর চুরি করে চাকরি বাগানোর প্রথম খোঁজ পাই ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আঁচ পেয়ে আমি গিয়েছিলাম পিএসসি অফিসে। সেখানে ভাগ্যক্রমে একজন হুইসেলব্লোয়ারের সন্ধান পাই। যিনি ওখানে আধিকারিক ছিলেন। তাঁর সুরক্ষার কারণে পরিচয় বলতে পারছি না। তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নথি আমার হাতে তুলে দেন। একেবারে প্রামাণ্য নথি। যার থেকে দুর্নীতির শিকড়টা আমি অনুসন্ধান করতে পারি।”

স্মৃতির সরণি বেয়ে পার্থসারথি বলেন, “প্রথম তিনি যে নথিটি আমায় দিয়েছিলেন, সেটা ছিল ইংরেজি কম্পালসারি পেপার। তাতে প্রশান্ত বর্মণ শূন্য পেয়েছিলেন। কারণ, তিনি সাদা খাতা জমা দিয়েছিলেন। এই যে সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পাওয়া, তার সূত্রপাত বলা যেতে পারে পিএসসি পরীক্ষাকে।”

প্রশান্ত বর্মণের ‘কীতি’ উল্লেখ করে পার্থসারথি বলেন, “এক্ষেত্রে প্রথমে উনি শূন্য পেয়েছিলেন। সেটা পরে বেড়ে গিয়েছিল ১৬২। পরে আমি আরও গরমিল পাই। বাংলা কম্পালসারিতে একটি প্রশ্নের উত্তর লিখেছিলেন। পেয়েছিলেন ১৮। সেটা একলাফে বেড়ে গিয়ে হয় ১৬৮। তারও নথি আমার কাছে রয়েছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনা, এরকম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়, তিনটে ধাপ থাকে, প্রিলিমিনারি, মেনস, ইন্টারভিউ। এতবড় কারচুপি পৃথিবীতে হয়েছে কি না জানি না। এই প্রশান্ত বর্মণ প্রিলিমিনারিতে ২০০ নম্বরে পেয়েছিলেন ১৩ নম্বর। সেই নথিও আছে। আমি পরপর খবর করার পর প্রশান্ত বর্মণ নিজে আরটিআই করে নিজের নম্বর জানতে চেয়েছিলেন। তখন পিএসসি তাঁকে জানিয়েছিল, আপনি ১৩ পেয়েছেন। অর্থাৎ ডাহা ফেল।”

প্রিলিমিনারিতে ‘ডাহা ফেল’ করেও কীভাবে পরের ধাপে পৌঁছলেন প্রশান্ত বর্মণ? পার্থসারথি বলেন, “৮০ হাজারের মতো ব়্যাঙ্ক ছিল। পরে পিএসসি-র তরফেই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছিল, আমরা ওকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিচ্ছি। কিন্তু, কেন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তা লেখা ছিল না। এই দুর্নীতির সিংহভাগ সময় পিএসসি-র চেয়ারম্যান ছিলেন দীপঙ্কর দাশগুপ্ত। উনি মারা গিয়েছেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাড়ার বন্ধু। আমৃত্যু তাঁদের বন্ধুত্ব বজায় ছিল। পার্থবাবু জেলে থাকাকালীনও দীপঙ্করবাবু দেখা করতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ শোনা যায়, ৭৫ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে। তাছাড়া, প্রশান্ত বর্মণের জন্য বিশাল রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছিল। কেন তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেটাই অবাক।”

আর এক WBCS অফিসার শানু বক্সির কথা টেনে পার্থসারথি বলেন, “শানু বক্সি ২০১৬ সালের ব্যাচ। তার আগে যে হয়নি, সেটা বলতে পারছি না। শানু বক্সির নম্বরও বেড়েছে। শানু বক্সির সঙ্গে জাহাঙ্গির খানের অন্তরঙ্গ চ্যাট হত। তবে কি শানু কি ডায়মন্ড হারবার মডেলের অংশ ছিলেন?” দুর্নীতির খোঁজ করতে গেলে জল অনেকদূর গড়াবে বলে তিনি মনে করেন।

Follow Us