‘প্রতিবাদী’ তন্ময় ভট্টাচার্যকে শো-কজ সিপিএমের

"শৃঙ্খলাপরায়নতার নামে এসব প্রশ্ন দলীয় নেতৃত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।'' রাজ্যে সিপিএম (CPIM)-এর নজিরবিহীন ভরাডুবির পর এভাবেই আলিমুদ্দিনকে নিশানা করেছিলেন তন্ময় ভট্টাচার্য।

'প্রতিবাদী' তন্ময় ভট্টাচার্যকে শো-কজ সিপিএমের
ফাইল চিত্র

কলকাতা: দলবিরোধী মন্তব্য করায় তন্ময় ভট্টাচার্য (Tanmoy Bhattacharya) কে শো-কজ করল সিপিএমের (CPIM) উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটি। প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে বিবৃতি জারি করল জেলা পার্টি। তন্ময়বাবুর অবশ্য দাবি, ‘কমিউনিস্ট পার্টিতে এটাকে শো-কজ বলে না। জেলা পার্টি আমার নামে একটি বিবৃতি দিয়েছে।’

প্রসঙ্গত, বাংলা বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election 2021) সিপিএমের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বকে তোপ দেগেছিলেন দমদম উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী। রবিবার একটি এক টেলিভিশন চ্যানেলে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। যার জেরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে সরব হয় দলের একাংশ।

রবিবার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার পর দেখা যায় রাজ্যে মাত্র একটি আসন জিতেছে সংযুক্ত মোর্চা। সেটাও আবার বাম বা কংগ্রেস কেউ নয়, পেয়েছে জোটসঙ্গী আইআসএফ।  আর তার পরই হারের জন্য দলীয় নেতৃত্বকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন তন্ময়বাবু। তাঁর কথায়, ‘দলীয় নেতৃত্বের একাংশ বলে আমরা ভোটে হারজিত নিয়ে চিন্তিত নই। আমরা রাস্তায় আছি। আমাদের দল সংসদীয় রাজনীতিকে গ্রহণ করেছে। সেখানে হারজিতের ওপরেই প্রাসঙ্গিকতা নির্ভর করে। যে নেতারা রাস্তায় থাকার কথা বলতেন, তাঁদের হাতে একটা ফুটো বাটি ধরিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে জনতা।’

এখানেই থামেননি তিনি, মন্তব্য করেন ‘পুরো সিস্টেমটা (দলের) আজ উলঙ্গ হয়ে গিয়েছে।’ তন্ময়বাবুর দাবি, দলের কয়েকজন পলিটব্যুরো সদস্য ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো করে দল পরিচালনা করেন। তাঁরা মানুষের চাহিদার কথা না জেনে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। এভাবেই কংগ্রেস ও আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে জোট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে দলীয় কর্মীদের ওপর।

রাজ্যে সিপিএমের ভরাডুবির দায় শীর্ষ নেতৃত্বকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তন্ময়বাবু বলেছিলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে যারা দলকে শূন্য করেছে তারা কোনও দায় নেয়নি। এবার বিধানসভাতেও দল শূন্য হয়েছে। এবার একথা-সেকথা বলে দায়িত্ব এড়ালে চলবে না।’ তিনি যোগ করেন, “শৃঙ্খলাপরায়নতার নামে এসব প্রশ্ন দলীয় নেতৃত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।”

আরও পড়ুন: ‘ভোটে হেরে মুখ্যমন্ত্রী হলেন, রাজ্যে এমনটা প্রথম’, মমতাকে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর 

এই প্রেক্ষিতে প্রাক্তন বিধায়ককে শো-কজ করল জেলা কমিটি। এদিকে দলের রাজ্য নেতৃত্বের অন্যতম তন্ময়বাবু নিজেও। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তিনি। ২০১৬-র নির্বাচনে উত্তর দমদম কেন্দ্রে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো হেভিওয়েটকে হারিয়েছিলেন তন্ময়বাবু। এবার তাঁর কাছেই হারের মুখ দেখতে হয়েছে বিদায়ী বিধায়ককে।

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla