
কলকাতা: পাঁচ বছর ধরে ‘শূন্যের’ খোঁচা খেতে হয়েছে। যেকোনও বিতর্কসভায় বিপক্ষ দলের কেউ না কেউ কটাক্ষ করেছেন। সেই শূন্যের গেরো ছাব্বিশের নির্বাচনে কাটাল বামেরা। একুশের নির্বাচনে শূন্য পেয়েছিল কংগ্রেসও। এবার তারাও আসন পেয়েছে। আবার হুমায়ুন কবীর নতুন দল খুলেই চমক দিয়েছেন। ভাঙড়ে নিজের আসন ধরে রেখেছেন আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকী। সবমিলিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি ছাড়া কারা কারা জিতলেন এবারের বিধানসভা নির্বাচনে।
মুর্শিদাবাদে উড়ল কংগ্রেসের পতাকা-
এবারের নির্বাচনে একাই লড়েছিল কংগ্রেস। ভোটের কয়েকমাস আগে কংগ্রেসে ফিরে আসেন মৌসম বেনজির নুর। কংগ্রেস এবার মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুরে কেমন ফল করে, সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন সবাই। কিন্তু, মালদহে ছাপ ফেলতে পারল না কংগ্রেস। তাদের মুখ রক্ষা হল মুর্শিদাবাদে। কংগ্রেস দুটি আসন পেয়েছে। দুটিই মুর্শিদাবাদ জেলায়। ফরাক্কা এবং রানিনগর। ফরাক্কায় কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছেন মোতাব শেখ এবং রানিনগরে জিতেছেন জুলফিকার আলি।
হুমায়নের ‘ডবল’ ধামাকা-
নির্বাচনের কয়েকমাস আগেই তৃণমূল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন হুমায়ুন কবীর। নিজে দুটি কেন্দ্রে প্রার্থী হন। রাজ্য জুড়ে দেড়শোর বেশি আসনে তাঁর দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি প্রার্থী দেয়। বাকি প্রার্থী জেতেননি। তবে ‘ডবল’ ধামাকা দিলেন হুমায়ুন। দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। দুটিতেই জিতেছেন। রেজিনগর এবং নওদা।
খরা কাটল বামেদের-
একুশের নির্বাচনে বাংলায় খাতাই খুলতে পারেনি বামেরা। গত পাঁচ বছরে এই নিয়ে অনেক কটাক্ষ শুনতে হয়েছে। এবার কয়েকটি আসনে বামেরা ভালো ফল করতে পারে বলে জল্পনা ছিল। তা অবশ্য হয়নি। তবে মুখরক্ষা হল মুর্শিদাবাদে। ডোমকলে জিতেছেন সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
ভাঙড়ে ফের ‘ভাইজান’-
একুশের নির্বাচনে নতুন দল গঠন করেছিলেন আব্বাস সিদ্দিকী। সেই আইএসএফের টিকিটে ভাঙড়ে জিতেছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। এবারও ভাঙড়ে প্রার্থী হন তিনি। আর তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী করে শওকত মোল্লাকে। শেষ হাসি হাসলেন ‘ভাইজান’ নওশাদ। ভাঙড় থেকে ফের জিতেছেন।
সবমিলিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল ছাড়া ৬টি আসন পেল অন্য দলগুলি। যেখানে একুশের নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূল ছাড়া একমাত্র নওশাদ জিতেছিলেন।