Mamata Vs Suvendu: ভবানীপুরে মমতাকে বাঁধতে চাইছেন শুভেন্দু?

Mamata Vs Suvendu: ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে লাগাতার ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ছ’টি ওয়ার্ডে ভাল ভোট পেয়ে আসছে পদ্মশিবির। এমনকি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে শাসকদল তৃণমূলকে পিছনে ফেলে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডগুলিতে। এমনকি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায় তৃণমূল সংসদ সুব্রত বক্সীকে ১৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন।

Mamata Vs Suvendu: ভবানীপুরে মমতাকে বাঁধতে চাইছেন শুভেন্দু?
ভবানীপুরে সম্মুখ সমরে মমতা-শুভেন্দুImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Mar 17, 2026 | 6:26 PM

কলকাতা:  একজন ভবানীপুরের মেয়ে। অন্যজন পূর্ব মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র। পাঁচ বছর আগে প্রথমজন গিয়েছিলেন দ্বিতীয়জনের গড়ে। একুশের নির্বাচনে মেগা ডুয়েল দেখেছিল নন্দীগ্রাম। পাঁচ বছর পর দ্বিতীয়জন প্রথমজনের ঘরে এসে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।  একুশের পর ছাব্বিশও। সম্মুখ সমরে মমতা-শুভেন্দু। গতবার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন নন্দীগ্রামে, সেখান থেকে কনফিডেন্স বিল্ড-আপ, এবার সরাসরি ভবানীপুরেই চ্যালেঞ্জ করে বসলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। ছাব্বিশের বঙ্গযুদ্ধের ‘এপিসেন্টার’ ভবানীপুরে দাঁড়িয়েই তিনি যে সরসারি লড়তে চান মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে, সে কথা আগভাগেই প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দোলের সকালে তাঁর ভবানীপুরে যাওয়া,  নামকীর্তন, রং খেলা,

পরবর্তীতে সেখানেই ‘ওয়ার রুম’ গঠন- এই সবই ঘটনাপ্রবাহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে জলের মতো পরিষ্কার ছিল। কিন্তু বিশ্লেষকদের কাছে একটা বিষয়ই ধোঁয়াশায়, খুব একটা অঘটন না ঘটলে এই আসনের ফল কী হতে পারে? বিজেপি কি একটু বেশিও ওভার কনফিডেন্ট হচ্ছে? নাকি অন্য কোনও অঙ্ক কষে আটঘাঁট বেঁধেই ময়দানে নেমেছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, মমতার গড়েই তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে শুভেন্দুকে? তাই নিয়েই আজকের ব্রিফিং রুমে আপনাদের সঙ্গে আমি শর্মিষ্ঠা।

আত্মবিশ্বাসের কথা বলছিলাম! ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর ছেড়ে লড়াই করতে গিয়েছিলেন নন্দীগ্রামে। কিন্তু নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হন। পরবর্তী সময়ে ভবানীপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সাংবিধানিক শর্তপূরণ করেছিলেন মমতা। সে খোঁচা একাধিকবার শুভেন্দু দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এখান থেকেই আত্মবিশ্বাসী হয়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীকেও যে হারানো সম্ভব, তা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। স্বাভাবিকভাবেই এটা শুভেন্দুর কাছে আত্মবিশ্বাসের জায়গা। কিন্তু ভবানীপুর! সে তো মুখ্যমন্ত্রীর ‘বড় বোন’! বড় বোন বললাম, কারণ  গত একুশের নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীকেই বলতে শোনা গিয়েছিল ভবানীপুর যদি তাঁর বড় বোন হয়, তবে নন্দীগ্রাম মেজ বোন।  তাহলে কীভাবে শুভেন্দুর এত আত্মবিশ্বাস?

সেটা বোঝার আগেই ভবানীপুরের ডেমোগ্রাফিটা একবার ঝালিয়ে নেওয়া উচিত। কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ড নিয়ে তৈরি হয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ভবানীপুর বিধানসভা।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে লাগাতার ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ছ’টি ওয়ার্ডে ভাল ভোট পেয়ে আসছে পদ্মশিবির। এমনকি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে শাসকদল তৃণমূলকে পিছনে ফেলে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডগুলিতে। এমনকি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায় তৃণমূল সংসদ সুব্রত বক্সীকে ১৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন। সেই পরিসংখ্যানে ভর করেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীকে ধাক্কা দিতে চান বিরোধী দলনেতা।

ভবানীপুর বিধানসভার মধ্যে বিজেপির সবচেয়ে বেশি ভোট রয়েছে এই ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে। বিজেপি-র নিজস্ব সমীকরণ বলছে, ভবানীপুর বিধানসভার সব নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, তৃণমূল বারবার জয়ী হয়েছে কেবলমাত্র একটি ওয়ার্ডে পাওয়া ভোটের ব্যবধানের ভিত্তিতে। যেহেতু ভবানীপুর বিধানসভা এলাকার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত, তাই ওই ওয়ার্ডের উপর ভিত্তি করেই তৃণমূল জয়ী হয়। আর ঠিক এখানেই আসছে এসআইআর-এর প্রশ্ন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,  হটসিট ভবানীপুরের মতো জায়গায় এখানে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে ভোটার তালিকার পরিবর্তন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভবানীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা হ্রাস এবং বিচারাধীন নামের সংখ্যা বৃদ্ধি ভীষণভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। সেটা রাজনৈতিক দিক থেকে প্রশাসনিক দিক থেকেও।  ‘স্যারের’ ক্লাসে ভবানীপুরে খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছে ৪৪ হাজার ৭৮৫ জনের নাম। চূড়ান্ত তালিকায় আরও বাদ ২ হাজার ৩২৪। এখনও বিবেচনাধীন ১৪ হাজার ১৫৪।

এর মধ্যে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ডের প্রচুর নাম কাটা গিয়েছে। আর এদিকে গত নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডেই বিজেপির ফল ভালো হয়েছিল। তাই এই ৭০ নম্বর ওয়ার্ডেই ৮/১বি চক্রবেড়িয়া রোডের (দক্ষিণ) একটি বাড়ির নীচের তলায় তৈরি করা হয়েছে এই ‘ওয়ার রুম’টি।  এখান থেকে ভোট পরিচালনা করার কথা শুভেন্দুর।

এসবের পরও ভবানীপুর থেকে শুভেন্দুর দাঁড়ানো নিয়ে তৃণমূলের তরফ থেকে খোঁচা কম নেই। তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি তো ভবানীপুরে সব ওয়ার্ডে প্রার্থীই দিতে পারবে না। আর বিজেপির খোঁচা, মুখ্যমন্ত্রী  হলেন ‘কমপার্টমেন্টাল চিফ মিনিস্টার’।

শেষ কয়েক মাসে অনুশীলনে কোনও কসুর রাখেননি বিরোধী দলনেতা। কিন্তু লাস্ট আওয়ারে অঙ্ক কি মেলাতে পারবেন? নাকি ঘরের মেয়ে বাজিমাত করে বেরিয়ে যাবে! গোটা বঙ্গ তাকিয়ে শুধু ৪ মে-র দিকে!

 

 

Follow Us