Speaker Biman Banerjee: ‘সরকারের বিল না থাকলে কী করব?’, বিধানসভার অধিবেশন নিয়ে স্পিকার বিমানের মন্তব্যে ‘অন্য সুর’ শুনছে বিজেপি

West Bengal assembly: স্পিকারের মন্তব্য নিয়ে খোঁচা দিয়ে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, "দুর্ভাগ্যের বিষয় এই রাজ্য সরকার বিধানসভার অধিবেশন চালাতে দিতে চাইছে না। তারা তো চাইবে না, বিরোধীরা কোনও কথা বলুক। কোনও বিল নিয়ে আলোচনা চলুক।"

Speaker Biman Banerjee: সরকারের বিল না থাকলে কী করব?, বিধানসভার অধিবেশন নিয়ে স্পিকার বিমানের মন্তব্যে অন্য সুর শুনছে বিজেপি
কী বললেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়?Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Feb 21, 2026 | 12:03 PM

কলকাতা: শাসক-বিরোধী বিধায়কদের হট্টগোল। বিরোধী বিধায়কদের ওয়াক আউট। গত ৫ বছরে বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন এই ছবি বারবার দেখা গিয়েছে। আর আসন্ন ভোটের আগে বিধানসভার অধিবেশন নিয়েই আক্ষেপ শোনা গেল স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। বিরোধী বিজেপিকে নিশানা করলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, অধিবেশন বেশিদিন না চলার জন্য রাজ্য সরকারের ঘাড়েও দোষ চাপালেন স্পিকার। তাঁর মন্তব্য নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়ল না বিজেপি। 

বিধানসভার রেকর্ড বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বিধানসভা চলেছে ৪৫৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। পাঁচ বছরে বিধানসভা চলেছে ১৬৬ দিন। এই ৫ বছরে সপ্তদশ বিধানসভায় প্রশ্ন এসেছে ৪১৬২টি। তার মধ্যে বিধানসভায় উত্তর দেওয়া হয়েছে ১৬০৪টি। সপ্তদশ বিধানসভায় প্রিভিলেজ এসেছে ২৯টি। বিধানসভায় ৯১টি বিল এসেছে।বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব এসেছে ৩৯টি। বিধানসভায় দৃষ্টি আকর্ষণী প্রস্তাব এসেছে ২৭২টি। মেনশন করা হয়েছে ৯৩২টি।

সপ্তদশ বিধানসভার শেষ বেলায় অধিবেশন ঠিকমতো না চলার জন্য আক্ষেপ করলেন স্পিকার। এর জন্য প্রথমে বিজেপিকে খোঁচা দিলেন। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওরা বিধানসভাকে কাজে লাগাতে পারল না। বিধানসভা সরকারকে চেপে ধরার জায়গা। সরকারের ত্রুটি বিচ্যুতি উল্লেখ করার জায়গা। সেই জায়গার সুযোগটা ওরা নিতে পারল না। আমি বুঝতে পারি না, ওয়াক আউট করে কী লাভ হচ্ছে ওদের। ওয়াক আউট করলে হয়ত কাগজে একটা খবর বেরবে। কিন্তু, সেই ওয়াক আউট করার ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা বাদ চলে গেল। যেটা আমাদের রেকর্ডে থাকত, সেটা হল না।”

স্পিকারের ক্ষোভ থেকে ছাড় পেলেন না নতুন বিধায়করাও। তিনি বলেন, “নতুন বিধায়কদের আমি সবসময় সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু, তাঁরা যদি হাত না তোলেন, কী করব। বিষয়টা তো তাঁদের জানতে হবে। এটা প্রশ্ন করলে, তাঁকে প্রস্তুত হয়ে আসতে হবে। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত তাঁরা কেউ প্রস্তুত হয়ে আসে না।”

এরপরই বিধানসভার অধিবেশন ঠিকমতো না চলার জন্য রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিধানসভায় বছরে কমপক্ষে ৬০ দিন এবং লোকসভায় কমপক্ষে ১০০ দিন অধিবেশন হওয়া দরকার। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পশ্চিমবঙ্গে বিগত কয়েক বছরে ৬০ দিন তো দূরের কথা, ৪৫-৪৬ দিন টপকাতে পারেনি। এর অনেকগুলো কারণ আছে। সরকারের বিল ছাড়া কোনওদিন বিধানসভা চলতে পারে না। আমরা কিছু কিছু নতুন প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেছিলাম, যেটা লোকসভার স্পিকারকে বলেছিলাম। যে স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্ট নিয়ে আমরা আলোচনা, সেটা গভর্নমেন্ট বিজনেস হিসেবে ধরে এগোই। কিন্তু, সরকারের বিল না থাকলে কী করব? সরকার আমাকে বিজনেস দেবে, তবে বিধানসভা চলবে। আমি নিজে বিজনেস তৈরি করতে পারি না। আমি আশা করব, নতুন বিধানসভা তৈরির পর সরকার এই দিকটা দেখবে।”

স্পিকারের মন্তব্য নিয়ে খোঁচা দিয়ে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “দুর্ভাগ্যের বিষয় এই রাজ্য সরকার বিধানসভার অধিবেশন চালাতে দিতে চাইছে না। তারা তো চাইবে না, বিরোধীরা কোনও কথা বলুক। কোনও বিল নিয়ে আলোচনা চলুক। সরকার চায় না, বিধানসভার নোটিসে পয়েন্ট অব ডিসেন্ট সেইগুলো লিখিতভাবে থাকুক যে বিজেপি কীভাবে মানুষের দুঃখ কষ্ট তুলে ধরেছিল। আজকে এসব বলে লাভ নেই। আর দ্বিতীয়ত, এতদিন মালকিন যা বলতেন, তা শুনতেন। আজকে অন্যরকম স্বর, অন্যরকম সুর বিভিন্ন দিক থেকে আসছে। বড্ড সন্দেহজনক লাগছে। তাহলে কি জাহাজ ডুবছে বলে সমস্ত ইঁদুর পালাচ্ছে?”