West Bengal Budget Session: ঘাটাল অবধি পড়েই ইতি, মন্ত্রিসভার লিখে দেওয়া ভাষণ পুরো পড়লেন না রাজ্যপাল

Budget Session in West Bengal Assembly: কিন্তু বক্তৃতা সম্পূর্ণ করলেন না তিনি। মন্ত্রিসভার লিখে দেওয়া ভাষণের শুরুর তিনটি পাতা পড়েই নিজের বক্তৃতা শেষ করলেন রাজ্যপাল। তাঁর পড়া শেষ লাইন, 'কেন্দ্রীয় সরকারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান...' — আর এখানেই ইতি, থেমে যান তিনি।

West Bengal Budget Session: ঘাটাল অবধি পড়েই ইতি, মন্ত্রিসভার লিখে দেওয়া ভাষণ পুরো পড়লেন না রাজ্যপাল
বিধানসভায় রাজ্যপালImage Credit source: নিজস্ব চিত্র

| Edited By: Avra Chattopadhyay

Feb 05, 2026 | 1:37 PM

কলকাতা: মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় বারের সরকারের এটাই শেষ বাজেট। তাতে বক্তৃতা দিতে এলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেই ভাষণ শেষ হলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট অনুমোদন পাবে। কিন্তু ভোটের আগের এই শেষ বাজেটে বিতর্কের সূত্রপাত রাজ্যপালের ভাষণ দিয়েই।

দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু আগে বিধানসভায় এসে পৌঁছোলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। অম্বেদকর মূর্তিতে মাল্যদান করলেন তিনি। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সময় অধিবেশনে শুরু হয়ে যায় স্লোগান-পাল্টা স্লোগান। ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শোনা যায় তৃণমূলের বিধায়কদের। আর স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের মাঝে বিধানসভায় বক্তৃতা শুরু করলেন রাজ্যপাল।

কিন্তু বক্তৃতা সম্পূর্ণ করলেন না তিনি। মন্ত্রিসভার লিখে দেওয়া মোট আট পাতার ভাষণের শুরুর তিনটি পাতা পড়েই নিজের বক্তৃতা শেষ করলেন রাজ্যপাল। তাঁর পড়া শেষ লাইন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান…’ — আর এখানেই ইতি, থেমে যান তিনি। বলেন, ‘আমি আর পড়ব না।’ বক্তৃতা সেরে যাওয়ার সময়ে রাজ্যপালের উদ্দেশে ‘ওয়েল ডান’ বলে হাততালি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

কিন্তু কেন গোটা ভাষণ এড়িয়ে গেলেন রাজ্যপাল? বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য়পাল বোসের জন্য মন্ত্রিসভার লিখে দেওয়া আট পাতার সম্পূর্ণ ভাষণ জুড়ে রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের গুণগান। এছাড়াও ওই আট পাতার মধ্য়েই একটি অংশে উল্লেখ রয়েছে, কেন কেন্দ্র ‘মনরেগা’ প্রকল্পকে বাতিল করল ও রাজ্য তার বিনিময়ে কোন প্রকল্প আনল। কিন্তু এই কোনও অংশই পড়েননি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আংশিক ভাষণ পড়েই বেরিয়ে যান তিনি।

এই ঘটনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “৪৫ মিনিট ধরে রাজ্যপালের ভাষণ শুনব বলে এসেছিলাম। কিন্তু উনি সাড়ে চার মিনিট বললেন। ঘাটাল মাষ্টার প্ল্যান এ গিয়ে আটকালেন। যেখানে কেন্দ্রকে দোষারোপ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অহেতুক দোষারোপ রাজ্যপাল পড়েননি। ভাষণে বাংলার জ্বলন্ত সমস্যা গুলো উল্লেখিত হয়নি।” উল্লেখ্য শুধু বাংলা নয়, সাম্প্রতিক অতীতে একই রকম ঘটনার সাক্ষী থেকেছে তামিলনাড়ু, কর্নাটক ও কেরলেও। সে রাজ্যের সরকার (মন্ত্রিসভার) লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ আংশিক পাঠ করেই বেরিয়ে যান রাজ্যপালরা।