
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বাজেট পেশ করলেন রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ভোটের আগে হওয়া অন্তর্বর্তী বাজেটে এক কথায় কল্পতরু রূপে ধরা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘোষণা করা হল নতুন প্রকল্প। আবার কোনও কোনও পুরাতন প্রকল্পের জন্য বাড়ল বরাদ্দও।
এই বাজেটে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করলেন যে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে আশা কর্মীদের মাসিক সাম্মানিক বৃদ্ধি করা হল ১ হাজার টাকা। আর সেই কারণেই বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেন তিনি। এ ছাড়াও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের ভাতাও বৃদ্ধি করা হল ১ হাজার টাকা করে। আর এই খাতে রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী বরাদ্দ করলেন ২৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও এই দুই ক্ষেত্রেই কর্মীদের মৃত্যু হলে তাঁদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাবও দিলেন তিনি।
প্যারা টিচার, শিক্ষাবন্ধু, সহায়ক সহ শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সাম্মানিক ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে বাড়ানো হল ১ হাজার টাকা করে। তাঁরাও ওই ৫ লক্ষ টাকার সুবিধা পাবেন। এ ছাড়াও ১ হাজার টাকা করে সাম্মানিক বাড়ল সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ ও গ্রিন পুলিশের।
এদিন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন গিগ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্য সাথীর মতো সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের অধীনে নিয়ে আসা হবে। এ ছাড়াও জব কার্ড হোল্ডারদের কাজ নিশ্চিত করতে ‘মহত্মাশ্রী’ প্রকল্পের অধীনে ১০০ কাজের জন্য আগামী অর্থবর্ষে ২ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে রাজ্যের তরফে।
রাজ্যের ক্ষেতমজুরদের জন্য বার্ষিক ৪ হাজার টাকার অর্থিক অনুদানের ঘোষণাও এদিন করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়াও রাজ্যের পেনশন প্রাপকদের খরচ লাঘব করার জন্য বাড়ছে ক্যাশলেস সুবিধাও। ৪ শতাংশ বাড়ছে সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ্যভাতা বা ডিএ।
এর পরই তিনি ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্পের ঘোষণাও করেন। এই প্রকল্পের অধীনে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ যুব সমাদের জন্য এই প্রকল্প চালু করেন তিনি। জানা গিয়েছে আগামী ১৫ অগস্ট থেকে চালু হবে এই প্রকল্প। এই প্রকল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে বলেন, “যুব-সাথী প্রকল্পে ৫ বছর আমরা ১ হাজার ৫০০ টাকা করে দেব। এই প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ যুব উপকৃত হবে।”
এ ছাড়াও অর্থ বরাদ্দ বেড়েছে লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পে। আগামী অর্থ বছরে অতিরিক্ত ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। এ ছাড়াও চন্দ্রিমা ভটাচার্য বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আরও ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হল।