
শেষ হাসি হাসবে কে? রাত পোহালেই গণনা। তার আগে তুঙ্গে রাজনীতির পারদ। এরইমধ্যে রাজ্যজুড়ে গণনা কেন্দ্রগুলিতে চলছে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর কেন্দ্রীয় বাহিনী। শান্তিপূর্ণ গণনা নিশ্চিত করতে কড়া নির্বাচন কমিশনও। আগে ঠিক হয়েছিল গোটা রাজ্যে ৮৭টি গণনা কেন্দ্রে হবে কাউন্টিং। কিন্তু সম্প্রতি সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৭৭।
রাজ্যের সমস্ত গণনা কেন্দ্রগুলিই কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়া বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়। এই কেন্দ্রে বাঁকুড়া, ছাতনা, ওন্দা, বড়জোড়া এবং শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে। গোটা চত্বর কেন্দ্রীয় বাহিনীর ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মোড়া হয়েছে। একদম বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে রাজ্য পুলিশ।
ভবানীপুরে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালেও কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ফলে সেখানে যে কোনও ধরনের জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। চুঁচুড়া এইচআইটি কলেজে স্ট্রংরুম ও গণনা কেন্দ্রের সামনেও কড়া নিরাপত্তা। স্ট্রং রুমের সামনে আধা সামরিক বাহিনী, দ্বিতীয় স্তরেও বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গণনা কেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে রয়েছে রাজ্য পুলিশ। চন্দননগর পুলিশের পক্ষ থেকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে গণনা কেন্দ্রে চলছে তল্লাশি। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি প্রার্থীরা এসে খাতায় সই করে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা দেখে যাচ্ছেন।
পুরোদমে চলছে সিসিটিভি নজরদারিও। সব জায়গাতেই তৃণমূল ও বিজেপির নির্বাচনী এজেন্টরা একনাগাড়ে পাহারায় বসে আছেন। গণনা চলাকালীন বা তার আগে-পরে যাতে কোনও এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি না হয় তার জন্য দিকে দিকে চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ। রবিবার সকাল থেকেই হিঙ্গলগঞ্জ সহ বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় জওয়ানদের টহল চলছে।
গণনার আগে সাংগঠনিক স্তরে নজরদারি অটুট রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে শাসক দল। জেলায় জেলায় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর অঙ্গ হিসেবে রবিবার সকালে হেলিকপ্টারে বহরমপুর স্টেডিয়ামে পৌঁছান তৃণমূল নেতা সুখেন্দু শেখর রায় এবং প্রতীক উর রহমান। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব পাওয়া এই দুই শীর্ষ নেতা জেলার স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে গণনার কৌশল নিয়ে বিশেষ বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে।