
কলকাতা: বাংলার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এর জেরে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির একজন সদস্যের হাতে চাকরি তুলে দিতে চায় রাজ্য় সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত হয়েছে এমনই সিদ্ধান্ত। যার জেরে এসআইআর-এর কারণে মৃত বা চরম হয়রানির শিকার হওয়া পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে উদ্যত্ত হয়েছে রাজ্য়।
বাংলার এসআইআর পর্ব ঘিরে বিতর্ক কম নয়। গোটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল একটি আত্মহত্যার সঙ্গে। পরে সেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে পৌঁছে যায় ৫৬। কেউ আত্মহত্যা করেছেন, কারওর স্বাভাবিক মৃত্যু। কিন্তু প্রত্যেকের মৃত্যুর কারণ হয়েছে এসআইআর ভয়। কখনও সেই অভিযোগ তুলেছে পরিবার, কখনও বা তুলেছে শাসকশিবির। এবার সেই মৃত ৫৬ জনের পরিবারের যে কোনও একজন সদস্যের হাতে ক্ষতিপূরণ হিসাবে চাকরি তুলে দিতে চায় রাজ্য।
সূত্রের খবর, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির যে একজন সদস্যকে হোম গার্ডের চাকরি দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। সেই মর্মে জেলা ধরে তৈরি হয়েছে তালিকা। দ্রুত যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়, সেই ব্যবস্থা করে ফেলেছে নবান্ন। তবে এই ৫৬ জনের পরিবারকেই যে চাকরি দিয়ে ক্ষান্ত হচ্ছে রাজ্য এমনটা নয়। জানা গিয়েছে, গোটা এসআইআর পর্বে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ ও হয়রানির শিকার হওয়া আরও ৫টি পরিবারকে বেছে নিয়ে নবান্ন। চাকরি দেওয়া হবে সেই পরিবারের যে কোনও একজন সদস্যকেও।
তবে এই চাকরির কোনও ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছেন না রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, গোটাটাই অনিশ্চয়তাপূর্ণ। অন্য একটি প্রসঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসাবে রাজ্যের দেওয়া হোমগার্ডের চাকরিকে ‘হাফ দাড়ি কাটার’ সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “এদের বেতনই বা কত! পেনশন নেই, গ্র্যাচ্যুইটি নেই। প্রতিবছর চাকরি রিনিউ করতে হয়। আর এরকম প্রচুর উদাহরণ রয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, এরা চাকরি রিনিউ করেনি। অন্তত ১৫ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি আর রিনিউ করা হয়নি।”