
কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতির মামলার শুনানিতে যখন টানটান পরিস্থিতি কোর্টরুমে। সেই সময় ইডির (ED) আইনজীবী হাতে তুলে নিলেন একটি ছোট লাল মোমবাতি। মনে করালেন শেক্সপিয়রের ম্যাকবেথের বিখ্যাত সেই অঙ্ক। ইডির আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি এদিন কোর্টরুমে ম্যাকবেথের সেই সংলাপও আওড়ান, ‘Will all great Neptune’s ocean wash this blood clean from my hand?’
সোমবার নিয়োগ মামলায় আলিপুর নগর দায়রা আদালতে ভার্চুয়ালি হাজিরা ছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। সেখানে পার্থর আইনজীবী তাঁর মক্কেলের জামিনের পক্ষে সওয়াল করে বলেন, পি চিদম্বরম কেন্দ্রীয় প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর ক্ষেত্রেও গ্রেফতারির পর প্রভাবশালী বলা হয়েছিল। তিনিও জামিন পেয়েছেন, তা হলে পার্থ নন কেন? আরও একটি বিষয় তুলে ধরেন পার্থর আইনজীবী।
এসএসকেএমের রিপোর্টে পার্থকে পুরোপুরি সুস্থ বলা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ভুবনেশ্বর এইমসে নিয়ে গিয়ে পার্থর শারীরিক পরীক্ষানিরীক্ষা করানো হয়েছিল, যা এদিন তুলে ধরে ইডি। ইডির আইনজীবী বলেন, এসএসকেএম নয়, হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে তাঁদের কাছে।
এরপরই হাতে মোমবাতি তুলে নিয়ে ইডির আইনজীবী ম্যাকবেথের সেই অনুতাপের দৃশ্য মনে করান। ইডির আইনজীবী বলেন, পার্থর মামলা অন্যান্য মামলার মতো নয়। এখানে প্রচুর মানুষ এরকম রয়েছেন যাঁরা ভুক্তভোগী। মানিকের সঙ্গে পার্থর কথোপকথনের উল্লেখ চার্জশিটে ছিল। এদিন ফের সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরায় পার্থর আইনজীবী দাবি করেন, নতুন কিছু না থাকায় পুরনো প্রসঙ্গ টানছে তদন্তকারীরা।
আদালত সূত্রে খবর, কোর্টের কাছে ইডির সাবমিশনে বলা হয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি প্রভাবশালী। জামিন পেলে বিচার প্রক্রিয়া থেকে পালিয়ে যেতে পারেন তিনি। একইসঙ্গে বলা হয়েছে মানিক ভট্টাচার্য ও পার্থ চট্টোপাধ্যায় এক অপরকে বিশ্বাস করেছে। যা অন্ধের মতো। সেই বিশ্বাস থেকেই দুর্নীতি করে গিয়েছেন পার্থ আর মানিক। এদিন পার্থর কাছে বিচারক জানতে চান তাঁর কী বক্তব্য। জবাবে পার্থ বলেন, তিনি অসুস্থ। তিনি বাঁচতে চান। যদিও ইডির মামলায়ও এদিন জেল হেফাজত হয় পার্থর। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে তাঁকে। অন্যদিকে সিবিআইও ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে পার্থকে।