আপনি যেখানে কেনাকাটা করেন, সেখানে একদিন থাকত রাজকীয় হাতি!

ইতিহাসবিদদের থেকে এবং পুরনো নথি থেকে জানা যায় আঠারোশো ও উনিশো শতকে উত্তর কলকাতার শোভাবাজার সংলগ্ন অঞ্চলে প্রবলভাবে জমিদারি ও নবাবি প্রভাব ছিল । রাজকীয় শোভাযাত্রা, প্রশাসনিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় উৎসব হাতি ছাড়া চলত না। অনেকের পছন্দের শপিং ডেস্টিনেশন আজকের হাতিবাগানের একটি অংশে হাতি রাখার জন্য নির্দিষ্ট বাগান বা আস্তাবল ছিল—সেই সময়ের নথি অনুযায়ী সেই আস্তাবলকে Elephant Ground বা Elephant Enclosure বলা হত।

আপনি যেখানে কেনাকাটা করেন, সেখানে একদিন থাকত রাজকীয় হাতি!

Jan 16, 2026 | 8:17 PM

কলকাতার হাতিবাগান মানেই ভিড় ঠাসা বাজারে চুটিয়ে শপিং,  ট্রাম ডিপো,সিনেমা হলের টিকিট কাউন্টারের বাইরে লম্বা লাইন, সারি বাঁধা দোকান। আর নিত্যদিনের কোলাহল। জানেন আজকের এই হাতিবাগানের ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়কর ইতিহাস—এক সময় এই এলাকায় থাকত রাজকীয় হাতি , আর সেই হাতির সঙ্গেই জড়িয়ে নামকরণ ‘হাতিবাগান’। তবে এর পিছনে জড়িয়ে আছে বিশাল ইতিহাস।

ইতিহাসবিদদের থেকে এবং পুরনো নথি থেকে জানা যায় আঠারোশো ও উনিশো শতকে উত্তর কলকাতার শোভাবাজার সংলগ্ন অঞ্চলে প্রবলভাবে জমিদারি ও নবাবি প্রভাব ছিল । রাজকীয় শোভাযাত্রা, প্রশাসনিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় উৎসব হাতি ছাড়া চলত না।

অনেকের পছন্দের শপিং ডেস্টিনেশন আজকের হাতিবাগানের একটি অংশে হাতি রাখার জন্য নির্দিষ্ট বাগান বা আস্তাবল ছিল—সেই সময়ের নথি অনুযায়ী সেই আস্তাবলকে Elephant Ground বা Elephant Enclosure বলা হত।

কেন সেই সময় আনন্দ উৎসবে হাতি ছাড়া চলত না জানেন? তৎকালীন সমাজে হাতি ছিল ক্ষমতা ও প্রভাবের প্রতীক। দুর্গাপুজো, রাজকীয় শোভাযাত্রা কিংবা প্রশাসনিক যাত্রা হাতি বিনা অসম্পূর্ণ ছিল। ফলে এলাকাটি কেবল ভৌগোলিক নয়, সামাজিকভাবেও পরিচিতি পায়—হাতির এলাকা হিসেবে।

ব্রিটিশ আমলের (প্রায় ১৮৫০–১৮৮০) কিছু নথিপত্রে শোভাবাজার–হাতিবাগান অঞ্চলে হাতি রাখার জায়গার কথা উল্লিখিত রয়েছে। কলকাতা গেজেটিয়ার ও স্থানীয় ইতিহাসচর্চায় বলা হয়েছে, এই এলাকায় একসময় রাজকীয় হাতির আনাগোনার জন্যই নাম হয় হাতিবাগান। হাতি থাকার জন্য জায়গাটিকে অনেক বলতেন “হাতির বাগান”। সেখান থেকেই আজকের ‘হাতিবাগান’ ।
সময়ের সঙ্গে হাতি হারিয়েছে হাতিবাগানে বসেছে বাজার, ট্রামলাইন, রাজনৈতিক সভা, সাংস্কৃতিক আন্দোলন।

কিন্তু ইতিহাসের স্মৃতি আজও বাঁচিয়ে রেখেছে তার নাম —’হাতিবাগান।’