মোদির কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করলেন অনুপম খের, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কী বললেন অভিনেতা?
পরিস্থিতি সামাল দিতে সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ -এর ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা নিজেদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা কমিয়ে এনেছেন।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে মন্দার ছায়া। ভারতের আকাশেও নতুন করে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে পেট্রোল-ডিজেল ব্যবহারে লাগাম টানার ও সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ -এর ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা নিজেদের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা কমিয়ে এনেছেন।
এই চরম সংকটের মুখে টিনসেল টাউনের আর পাঁচজন তারকা যখন নিজেদের বিলাসবহুল ‘জায়েন্ট কনভয়’ নিয়ে ঘুরে বেড়াতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ছবি দেখালেন প্রবীণ অভিনেতা অনুপম খের। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী আবেদনে সাড়া দিয়ে নিজের দামি গাড়ি গ্যারেজে রেখে গণপরিবহন তথা ভারতীয় রেলকে বেছে নিলেন তিনি। ট্রেনে চেপেই সারলেন দূরপাল্লার সফর।
বলিউডে অনুপম খেরের রাজনৈতিক অবস্থান কারও অজানা নয়। গেরুয়া শিবিরের প্রতি তার আনুগত্য এবং নিজেকে ‘গর্বিত হিন্দু’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া— সবক্ষেত্রেই তিনি বরাবরই সোচ্চার। এবার সংকটের দিনে ‘মোদির সৈনিক’ হিসেবে আমজনতার সামনে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী অভ্যেস গড়ে তোলার অনন্য নজির রাখলেন তিনি।
View this post on Instagram
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন অনুপম। জয়পুর থেকে দিল্লিগামী ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’-এর কামরায় বসে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাকে বলতে শোনা গেল, “নমস্কার বন্ধুরা, মোদিজির জ্বালানি সাশ্রয় মিশনে দেশের জন্য এটা আমার একটা অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্রয়াস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের নাগরিকদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, আমরা যেন সবাই পেট্রোল ও ডিজেল সাশ্রয়ের চেষ্টা করি। যেখানে সম্ভব, আমাদের গণপরিবহন (পাবলিক ট্রান্সপোর্ট) ব্যবহার করা উচিত।”
এখানেই শেষ নয়, ‘কারপুলিং’ বা গাড়ি ভাগাভাগি করে চড়ার ওপর জোর দিয়ে অনুপম আরও বলেন, “গন্তব্য যদি কাছাকাছি হয়, তবে ব্যক্তিগত গাড়ি বের না করাই শ্রেয়। দৈনন্দিন জীবনে এই সামান্য পরিবর্তনগুলো এনেই আমরা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারি। মোদিজি একদম সঠিক কথা বলেছেন। আর সেই ভাবনা থেকেই আজ আমি জয়পুর থেকে দিল্লি পর্যন্ত বন্দে ভারত ট্রেনে সফর করছি। আমার মনে হয় দেশের জন্য এটা খুব বড় কোনো ত্যাগস্বীকার নয়।”
আমজনতার উদ্দেশ্যে অনুপমের স্পষ্ট বার্তা— বর্তমান পৃথিবীতে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার মানে শুধু বড় বড় ভাষণ দেওয়া নয়, বরং নিজের অভ্যাসে ছোট ছোট বদল আনা। যেমন, দুজন মানুষ যদি একটি গাড়িতেই যাতায়াত করতে পারেন, তবে আলাদা দুটি গাড়ি ব্যবহার করার কোনো মানে হয় না। অভিনেতার কথায়, “দেশের সেবা করার দায়িত্ব শুধু সীমান্তে লড়াই করা সৈনিকদের নয়। আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মধ্যেই দেশের সেবা লুকিয়ে থাকে। আসুন, দেশের কল্যাণে আমরা যে যার সাধ্যমতো অবদান রাখি। জয় হিন্দ।”
সক্রিয় রাজনীতিতে পা না রেখেও কীভাবে দেশের জন্য কাজ করা যায়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন অনুপম খের। কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “দেশের সম্পদ হয়ে ওঠার জন্য সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। শুধু একজন ভালো ও সচেতন নাগরিক হয়ে ওঠাই যথেষ্ট।” বন্দে ভারতের এই সফরের মধ্য দিয়ে নিজের সেই আদর্শকেই যেন বাস্তবে রূপ দিলেন প্রবীণ এই অভিনেতা।
