অল্প খরচে হাইকিং করবেন? বসন্তে ঘুরে আসুন বাংলার এই ৫ রুট
দক্ষিণবঙ্গেও কিন্তু দারুণ হাইকিং ট্রেইল রয়েছে। এই সময় বাঁকুড়ার বিহারীনাথ পাহাড়ে ট্রেকিং করা এই সময়ে সবথেকে আরামের। প্রায় ৩ কিলোমিটারের রাস্তাটি পলাশ আর শিমুলে সেজে থাকে। উচ্চতা মাত্র ১,৪৮৫ ফিট হওয়ায় যে কেউ অনায়াসেই এই পাহাড় জয় করতে পারেন।

শীতের বিদায়বেলা আর চড়া রোদের মাঝখানে এই সময়ে প্রকৃতি হয়ে ওঠে অপরূপ। কোথাও টকটকে লাল পলাশ, আবার কোথাও পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা রডোডেনড্রন। ঘুরতে গিয়ে শুধু জানলার বাইরে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস না ফেলে, এই বসন্তে বেরিয়ে পড়ুন রুটের খোঁজে। যদি পাহাড় আপনার নেশা হয় আর পায়ে যদি সামান্য জোর থাকে, তবে খুব অল্প খরচেই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সেরে ফেলতে পারেন দুর্দান্ত কিছু হাইকিং বা ট্রেকিং। আর পকেট? সে নিয়েও বিশেষ চিন্তা নেই, নামমাত্র খরচে এই ৫ রুট আপনার বসন্তকে রঙিন করে তুলবে।
ধোত্রে-টুমলিং: সান্দাকফুর মূল রাস্তায় ভিড় না বাড়িয়ে চলে যান ধোত্রে। মানেভঞ্জনের কাছে এই ছোট্ট গ্রাম থেকে হাঁটা শুরু করুন। রডোডেনড্রনের জঙ্গলের পথ ধরে পৌঁছে যান টংলু, সেখান থেকে টুমলিং। দু’দিনের এই সফরে আপনার সঙ্গী হবে লাল রডোডেনড্রন ফুল আর কাঞ্চনজঙ্ঘা। কপাল ভালো থাকলে বেশ ভালোভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন করতে পারবেন। এনজেপি থেকে শেয়ার গাড়ি ও ধোত্রেতে হোম-স্টে মিলিয়ে ২ রাত ৩ দিনের খরচ মাথাপিছু ৩,০০০-৩,৫০০ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব। এখানকার অধিকাংশ হোম-স্টেতে খাওয়া-দাওয়া ও থাকা মিলিয়ে প্রতিদিনের খরচ ১,২০০-১,৫০০ টাকার মধ্যে থাকে।

AI
বিহারীনাথ পাহাড়: দক্ষিণবঙ্গেও কিন্তু দারুণ হাইকিং ট্রেইল রয়েছে। এই সময় বাঁকুড়ার বিহারীনাথ পাহাড়ে ট্রেকিং করা এই সময়ে সবথেকে আরামের। প্রায় ৩ কিলোমিটারের রাস্তাটি পলাশ আর শিমুলে সেজে থাকে। উচ্চতা মাত্র ১,৪৮৫ ফিট হওয়ায় যে কেউ অনায়াসেই এই পাহাড় জয় করতে পারেন। বাঁকুড়া স্টেশন থেকে অটো ভাড়া এবং স্থানীয় লজে এক রাত থাকা মিলিয়ে মাথাপিছু খরচ হবে মাত্র ১,৫০০-২,০০০ টাকা। বর্তমানে বিহারীনাথের সরকারি গেস্ট হাউস বা স্থানীয় লজগুলোতে ৮০০-১,০০০ টাকার মধ্যে ডবল বেড ঘর পাওয়া যায়।

AI
বক্সা ফোর্ট ও লেপচাখা: আলিপুরদুয়ারের সান্তালাবাড়ি থেকে শুরু করুন এই ট্রেক। ঐতিহাসিক বক্সা ফোর্ট পেরিয়ে পৌঁছে যান লেপচাখা গ্রামে। বসন্তে শুকনো পাতার মড়মড় শব্দ আর বন্যফুলের গন্ধে ভরে থাকে গোটা রাস্তা। পাহাড়ের নির্জনতা যারা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হয় না। আলিপুরদুয়ার থেকে সান্তালাবাড়ি যাতায়াত ও লেপচাখায় এক রাত থাকা-খাওয়ার বাজেট মাথাপিছু ২,৫০০ টাকার আশেপাশে। লেপচাখার হোম-স্টেগুলোতে ১,০০০-১,২০০ টাকার প্যাকেজে থাকা ও খাওয়ার সুবন্দোবস্ত রয়েছে।

AI
তাকদহ ও লামাহাট্টা : দার্জিলিংয়ের ঘিঞ্জি পরিবেশ এড়াতে চলে যান তাকদহ। ব্রিটিশ আমলের বাংলো আর পাইন গাছের জঙ্গলে ঘেরা এই গ্রাম বসন্তে বিচিত্র অর্কিডে সেজে ওঠে। এখান থেকে ছোট্ট হাইকিং করে পৌঁছে যেতে পারেন লামাহাট্টা ইকো পার্কে। সস্তায় পাহাড়ের আমেজ পাওয়ার জন্য এটি সেরা রুট। শেয়ার গাড়িতে যাতায়াত করলে এবং সাধারণ হোম-স্টেতে থাকলে ২ দিনে খরচ পড়বে প্রায় ২,৫০০-৩,০০০ টাকা। তাকদহের পুরনো ব্রিটিশ বাংলোর বদলে স্থানীয় হোম-স্টেগুলো বেছে নিলে খরচ আপনার হাতের মুঠোয়।

AI
শুশুনিয়া পাহাড় : বাঁকুড়ার আর এক রত্ন হল শুশুনিয়া পাহাড়। বসন্তে এই পাহাড়ের গায়ে যখন পলাশের রং লাগে, তখন এর রূপ বদলে যায়। পাথুরে পথে হাইকিং করার আনন্দ যেমন আছে, তেমনই পাহাড়ের নিচের ঝরনার ধারে সময় কাটানোও বেশ আরামের। এটি সবথেকে সস্তা রুট; ট্রেনে যাতায়াত ও স্থানীয় আতিথেয়তায় একবেলার ট্রিপে খরচ হতে পারে মাত্র ৮০০-১,২০০ টাকা। স্টেশনের কাছেই সুলভে খাওয়ার হোটেল ও নামমাত্র ভাড়ায় রাত কাটানোর ছোট লজ সহজেই পেয়ে যাবেন।

AI
অল্পদিনের ছুটি আর অল্প বাজেটে ঘুরতে চাইলে অবশ্যই ঘুরে আসতে পারেন এই জায়গা গুলো থেকে। মন ভালো হবেই।
