চা বানানোর সময় এই ৫টি ভুল প্রায় অনেকেই করেন! আপনিও কি এই লিস্টে?
আড্ডা হোক বা অফিসের ক্লান্তি দূর করা— এক কাপ চায়ের কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে চা আপনি প্রতিদিন এত তৃপ্তি করে খাচ্ছেন, তা বানানোর সময় অজান্তেই এমন কিছু ভুল করছেন যা চায়ের স্বাদ তো নষ্ট করছেই, পাশাপাশি আপনার স্বাস্থ্যেরও বড় ক্ষতি করছে?

বাঙালির সকাল মানেই এক কাপ গরম চা। আড্ডা হোক বা অফিসের ক্লান্তি দূর করা— এক কাপ চায়ের কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে চা আপনি প্রতিদিন এত তৃপ্তি করে খাচ্ছেন, তা বানানোর সময় অজান্তেই এমন কিছু ভুল করছেন যা চায়ের স্বাদ তো নষ্ট করছেই, পাশাপাশি আপনার স্বাস্থ্যেরও বড় ক্ষতি করছে?
সম্প্রতি পুষ্টিবিদ ও চা বিশেষজ্ঞদের একাংশ চা তৈরির সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বেশ কিছু জরুরি তথ্য সামনে এনেছেন। চা বানানোর সময় সাধারণত যে ৫টি ভুল আমরা প্রায় সবাই করে থাকি। কী এই ভুল?
১. জল ও চা পাতা একসঙ্গে ফোটানো
অনেকেরই অভ্যাস থাকে জল ও চা পাতা একসঙ্গে সসপ্যানে বসিয়ে দীর্ঘক্ষণ ফোটানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সবচেয়ে বড় ভুল। চা পাতা জলের সঙ্গে ফুটলে তাতে ‘ট্যানিন’ (Tannin) নামক উপাদান অতিরিক্ত মাত্রায় নির্গত হয়। এর ফলে চা তেতো হয়ে যায় এবং তা নিয়মিত খেলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়।
সঠিক নিয়ম: প্রথমে জল ভালো করে ফুটিয়ে নিন। তারপর গ্যাস বন্ধ করে বা আঁচ কমিয়ে চা পাতা দিয়ে পাত্রটি ঢাকা দিয়ে রাখুন ২-৩ মিনিট।
২. ফুটন্ত দুধে চা পাতা দেওয়া
বাঙালি বাড়িতে দুধ-চা অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু অনেকেই ফুটন্ত দুধের মধ্যে সরাসরি চা পাতা দিয়ে ফুটিয়ে ‘কড়া’ চা বানান। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দুধের প্রোটিন চায়ের উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা ‘ক্যাটেচিন’ (Catechin)-এর গুণাগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়। এছাড়া এই পদ্ধতিতে তৈরি চা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।
সঠিক নিয়ম: লিকার চা আলাদা বানিয়ে, তাতে পরে হালকা গরম দুধ মেশানো স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী।
সকাল বা বিকেলের বেঁচে যাওয়া চা পাতা দিয়ে অনেকেই রাতে আবার চা বানিয়ে নেন। খরচ বাঁচানোর এই অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। একবার ব্যবহৃত চা পাতা দীর্ঘক্ষণ ভিজে থাকলে তাতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। এছাড়া দ্বিতীয়বার ফোটালে চায়ের পুষ্টিগুণ আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
চায়ের আসল স্বাদ লুকিয়ে থাকে তার মৃদু সুগন্ধে। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি এবং চা পাতা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ফুটিয়ে চা-কে আলকাতরার মতো কড়া করে ফেললে তার ভেষজ গুণ নষ্ট হয়। এই ধরণের চা পানে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অনিদ্রা এবং রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আজকাল প্রায় প্রতি ঘরেই প্লাস্টিকের ছাঁকনি দিয়ে চা ছাঁকার প্রবণতা দেখা যায়। ফুটন্ত গরম চা যখন প্লাস্টিকের ছাঁকনির ওপর দিয়ে যায়, তখন প্লাস্টিক থেকে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ (Microplastics) বা ক্ষতিকর রাসায়নিক চায়ের সঙ্গে মিশে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। এটি দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের কারণ হতে পারে।
সঠিক নিয়ম: প্লাস্টিকের বদলে সর্বদা স্টিল বা সেরামিকের তৈরি ছাঁকনি ব্যবহার করুন।
চা শুধু একটি পানীয় নয়, এটি একটি অনুভূতি। তাই আপনার প্রিয় এই অনুভূতির স্বাদ এবং স্বাস্থ্যগুণ বজায় রাখতে আজই বদলে ফেলুন এই সাধারণ ভুলগুলো। সঠিক নিয়মে চা বানান, সুস্থ থাকুন।
