
নবজাতককে কোলে নিয়ে তাদের অসুস্থতা দেখলে আমরা সাধারণত জ্বর, সর্দি বা পেটের সমস্যার কথাই ভাবি। কিন্তু অনেক সময় সমস্যা লুকিয়ে থাকে আরও গভীরে, হৃদযন্ত্রে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় জন্মগত হৃদত্রুটি (Congenital Heart Defect)। জন্মের সময় থেকেই হৃদযন্ত্রের গঠনে ত্রুটি থাকলে রক্ত ও অক্সিজেন শরীরের সব অংশে ঠিকমতো পৌঁছয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানাচ্ছে, প্রতি ১০০০টি শিশুর মধ্যে প্রায় ৮-১০ জন এমন সমস্যায় জন্মায়। তাই লক্ষণগুলো আগে থেকে চেনা খুব জরুরি। কীভাবে বুঝবেন শিশুর হার্টে সমস্যা হচ্ছে কিনা?
ঠোঁট বা নখ নীলচে হওয়া- শিশুর ঠোঁট, জিভ বা নখে নীল আভা দেখা গেলে তাকে বলা হয় সায়ানোসিস। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে এই সমস্যা দেখা যেতে পারে। যা গুরুতর হৃদরোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
দুধ খেতে কষ্ট ও দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া- খাওয়ানোর সময় বাচ্চা যদি বারবার দম নিতে থামে, ঘামতে থাকে বা অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে তাহলে সেটি স্বাভাবিক নয়। ‘American Heart Association’ এর তরফে জানা গিয়েছে হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শিশুর শরীর খাওয়ার সময় বাড়তি শক্তি জোগাতে পারে না।
অস্বাভাবিক দ্রুত শ্বাস- শিশু যদি খুব দ্রুত শ্বাস নেয় বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। ‘Centers for Disease Control and Prevention (CDC)’ বলছে, এ ধরনের শ্বাসকষ্ট জন্মগত হৃদ সমস্যার অন্যতম সাধারণ লক্ষণ।
ওজন না বাড়া বা বৃদ্ধি ধীর হওয়া- বাচ্চা ঠিকমতো দুধ খেলেও ওজন না বাড়লে সতর্ক হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরের পুষ্টি সঠিকভাবে সরবরাহ হয় না।
অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের শব্দ- ডাক্তার পরীক্ষা করার সময় যদি হৃদস্পন্দনে অদ্ভুত শব্দ শোনেন, যাকে বলা হয় ‘হার্ট মার্মার’, তা কখনও কখনও জন্মগত ত্রুটির ইঙ্গিত হতে পারে। যদিও সব মার্মার বিপজ্জনক নয়।
অস্বাভাবিক ঘাম বা অস্থিরতা- বিশেষ করে খাওয়ার সময় বেশি ঘাম হওয়া বা সামান্য নড়াচড়ায় ক্লান্ত হয়ে পড়া এগুলোও হৃদযন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লক্ষণগুলি দেখা গেলে দেরি না করে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।