
ফাল্গুন মাস শেষের দিকে। চৈত্রের চড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরম পড়তে না পড়তেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে অনেকের। না, শুধু রোদে পোড়া বা ট্যান পড়ার ভয় নয়, আসল অস্বস্তিটা লুকিয়ে থাকে ঘামের তীব্র গন্ধে। অফিসে কলিগের সামনে বসতে বা ভিড় বাসে যাতায়াত করতে গিয়ে নিজের শরীরের গন্ধে নিজেই যখন কুণ্ঠিত বোধ করেন, তখন আত্মবিশ্বাস তলানিতে গিয়ে ঠেকে। অনেকে ভাবেন, দামি পারফিউম বা কড়া ডিওডোরেন্ট মাখলেই কেল্লাফতে! কিন্তু মজার বিষয় হল, ঘামের নিজস্ব কোনও গন্ধ নেই। যখন আমাদের ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের সংস্পর্শে আসে, তখনই তৈরি হয় ওই কটু গন্ধ। তাই বাইরে থেকে সুগন্ধি চাপিয়ে সাময়িক মুক্তি মিললেও স্থায়ী সমাধান হয় না। আবার অনেক সময় হিতে বিপরীত হয়। পারফিউম আর ঘামের গন্ধ মিলে ভয়ানক দূর্গন্ধ তৈরি হয়। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, আপনার রান্নাঘরেই লুকিয়ে আছে ঘামের গন্ধ দূর করার অব্যর্থ কিছু উপায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে এই গ্রীষ্মে নিজেকে তরতাজা রাখবেন।
সঠিক পোশাক নির্বাচন: গরমে টাইট বা সিন্থেটিক কাপড় শরীরের শত্রু। এ ধরনের কাপড় ঘাম শুষে নিতে পারে না, ফলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। তাই এই সময় ঢিলেঢালা সুতি বা লিনেনের পোশাক পরুন। এতে বাতাস চলাচলের সুযোগ পায় এবং ঘাম দ্রুত শুকিয়ে যায়।
হাইজিনে বাড়তি নজর: শরীরের যেসব জায়গায় ঘাম বেশি জমে- যেমন বগল, ঘাড় বা কুঁচকি সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিন অন্তত দু’বার স্নান করলে এবং ব্যাকটেরিয়া-রোধী সাবান ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ অনেক কমে আসে।
পাতিলেবুর জাদু: লেবুতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। স্নান করতে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে এক টুকরো পাতিলেবু বগলে হালকা করে ঘষে নিন। এতে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হবে। তবে ত্বকে ক্ষত থাকলে লেবু ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভালো।
পর্যাপ্ত জল পান: শরীর ভেতর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করতে না পারলে ঘামের গন্ধ তীব্র হয়। তাই প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। জল আপনার শরীরকে ডিটক্স করে ঘামের ঘনত্ব ও গন্ধ দুই-ই কমিয়ে দেয়।
ফিটকিরির জল: পুরনো দিনের এই টোটকা আজও সমান কার্যকর। ফিটকিরিতে থাকা অ্যান্টিসেপটিক গুণ ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার রাখে। স্নানের জলে সামান্য ফিটকিরি গুলে নিলে সারা দিন শরীর ফ্রেশ থাকে এবং দুর্গন্ধের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারের ব্যবহার: ত্বকের pH ব্যালেন্স ঠিক রাখতে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ম্যাজিকের মতো কাজ করে। একটি তুলোয় সামান্য ভিনিগার নিয়ে বগলে লাগিয়ে রাখুন এবং কয়েক মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্যাকটেরিয়া জন্মাবে না।
প্রাকৃতিক সুগন্ধি: রাসায়নিক ভরা ডিওডোরেন্টের বদলে গোলাপ জল ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটি শুধু সুগন্ধই দেয় না, ত্বককে শীতলও রাখে। এছাড়াও নিয়মিত জুতো বা মোজা পরিষ্কার রাখা এবং পায়ের আঙুলের ফাঁক শুকনো রাখা অত্যন্ত জরুরি।
গবেষণা বলছে, আমাদের খাদ্যাভ্যাসও ঘামের গন্ধে প্রভাব ফেলে। বেশি ঝাল বা মশলাযুক্ত খাবার ঘাম বাড়িয়ে দেয়। তাই এই গরমে হালকা খাবার আর এই সহজ ঘরোয়া টোটকাগুলো মেনে চললে আপনিও থাকতে পারেন ফ্রেশ আর কনফিডেন্ট।