
বেশিরভাগ বাড়িতেই বাড়ির সকল সদস্যের জন্য হয় একই রান্না। বাড়ির বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্করা একই খাবার খেয়ে থাকেন। কিন্তু জানেন কি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের হজমক্ষমতা, হরমোনের কাজ এবং হজমের ধরণ বদলায়। সেই কারণে যে খাবার এক বয়সে নিরাপদ, অন্য বয়সে তা নানা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (ICMR)-এর একাধিক রিপোর্টে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন বয়সে কোন খাবার একদম খাবেন না? কী বলছে গবেষণা?
শিশু বয়স (০–৫ বছর)
ICMR-এর ‘Dietary Guidelines for Indians’-এ বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্যাকেটজাত বিস্কুট, চকলেট বা মিষ্টি পানীয় দাঁতের ক্ষয় বাড়ায় এবং ছোট বয়সেই অতিরিক্ত মেদ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ছোট বয়সে বেশি চিনি খেলে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও বাড়ে।
কিশোর বয়স (৬–১৮ বছর)
এই বয়সে দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি হয়। WHO জানাচ্ছে, ট্রান্স ফ্যাটসমৃদ্ধ ফাস্ট ফুড নিয়মিত খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি এনার্জি ড্রিঙ্কে থাকা অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিশোরদের ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক করে তুলতে পারে বলে জানা গিয়েছে আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স – এর তরফে।
তরুণ বয়স (১৯–৩৫ বছর):
ফিটনেসের জন্য অনেক তরুণ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নিচ্ছেন। ‘Journal of Renal Nutrition’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রোটিন দীর্ঘদিন চললে কিডনির উপর চাপ পড়ে। একই সঙ্গে WHO-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ লিভারে ফ্যাট জমার অন্যতম কারণ।
মধ্যবয়স (৩৬–৫৫ বছর):
এই বয়সে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। WHO-এর মতে, দিনে ৫ গ্রামের বেশি নুন খেলে হাই ব্লাড প্রেসারের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ICMR-এর গবেষণায় প্রমাণিত সাদা ভাত, ময়দা ও চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে।
বয়স্ক (৫৫ ঊর্ধ্বে)
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হজমশক্তি ও হাড়ের ঘনত্ব কমে। ‘National Institute on Aging’-এর তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ভাজাভুজি ও রেড মিট কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এই বয়সে নরম, সহজপাচ্য ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার সবচেয়ে নিরাপদ।