
মাথাব্যথা, জ্বর, বুক ধড়ফড় বা হঠাৎ শরীর খারাপে আজকাল অনেকেই আগে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে মোবাইল খুলে বসেন। গুগল সার্চের পাশাপাশি ChatGPT, Bard বা Gemini-এর মতো AI চ্যাটবটের কাছেই খুঁজতে চান সমাধান। নিজের “লক্ষণ” লিখে রোগের কারণ খোঁজেন। বিশেষ করে রাতের বেলা বা দ্রুত ডাক্তার দেখানো সম্ভব না হলে, AI চ্যাটবটকেই অনেকে বানিয়ে নেন অস্থায়ী “ডাক্তার”। তবে জানেন এই ভরসাই উল্টো বিপদ ডেকে আনতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ন্যাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অফ প্রাইমারি কেয়ার হেলথ সায়েন্সেস-এর গবেষকরা প্রায় ১,৩০০ জন সাধারণ মানুষের উপর একটি পরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারীদের সামনে নানা বাস্তব জীবনের সমস্যা তুলে ধরা হয়—যেমন মাথা ব্যথা, মাথা ঝিমুনি, বা সদ্য মা হওয়া এক নারীর শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর উপসর্গ। এরপর তাঁদের বলা হয় AI চ্যাটবটের সাহায্যে সম্ভাব্য রোগ নির্ণয় করতে। ফলাফল ছিল বেশ চমকপ্রদ এবং উদ্বেগজনক। গবেষণায় দেখা যায়, বাস্তবে সাধারণ মানুষ যে চ্যাটবোটগুলির সঙ্গে কথোপকথন করেন সেগুলো অনেক সময় বিভ্রান্তিকর বা ভুল উত্তর দেয়। নিজের লক্ষণ ঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারলে, চ্যাটবটের দেওয়া জবাব আরও বেশি ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, যারা AI-এর সাহায্য নিয়েছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে সঠিক রোগ শনাক্ত করতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে AI। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে AI এমন পরামর্শ দিয়েছে যা বিপজ্জনক হতে পারে—গুরুতর উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার বদলে বিশ্রাম নিতে বলেছে।
কেন AI ভুল করে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI চ্যাটবটের কয়েকটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো মাঝে মাঝে “হ্যালুসিনেশন” করে—অর্থাৎ ভুল তথ্য তৈরি করে, রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করতে পারে না, আপনার সম্পূর্ণ চিকিৎসা ইতিহাস জানে না, প্রশ্নের সামান্য পরিবর্তনেই ভিন্ন উত্তর দিতে পারে, ফলে একবার ভালো জবাব পেলেও, সেটাই সব সময় সঠিক হবে এমন নিশ্চয়তা নেই।
গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন AI চ্যাটবট এখনও প্রকৃত চিকিৎসকের বিকল্প হতে পারে না। সাধারণ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বোঝাতে এগুলো সাহায্য করতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।