ধোঁয়াশায় বাড়ছে অসুখ, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেন ভেঙে পড়ছে?
শুধু তাই নয়, দূষণ শরীরের প্রতিরোধ কোষগুলোর কাজেও বাধা দেয়। ফলে সাধারণ সর্দি–কাশিও সেরে উঠতে সময় লাগে বেশি। অনেক সময় দেখা যায়, সুস্থ হওয়ার কিছুদিন পরই আবার বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু আগে থেকেই হাঁপানি, অ্যালার্জি বা সংবেদনশীল ফুসফুসের সমস্যায় ভোগে, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। দূষিত বাতাসে হাঁপানি, শ্বাসকষ্টের মত সমস্যা দেখা যায়। এমনকী একেবারে সুস্থ শিশুর মধ্যেও নতুন করে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কানের সংক্রমণ ও বুকে সংক্রমণও বাড়ছে।

শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে। তবে এখন অনেক জায়গাতেই সকালের আকাশটা কুয়াশা নয়, ধোঁয়াশায় ঢেকে থাকে। জানেন সেই ধোঁয়ার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক বড় বিপদ। একে বলে উচ্চ AQI (Air Quality Index)। অনেক বাবা–মায়েরা খেয়াল করছেন, বাচ্চা আগের চেয়ে বেশি কাশি, সর্দি, জ্বর আর শ্বাসকষ্টে ভুগছে। প্রশ্ন উঠছে—উচ্চ AQI (Air Quality Index) কি শিশুদের শরীরকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে?
পুনের শিশু বিশেষজ্ঞ বিভাগের প্রধান ডা. প্রদীপ সূর্যবংশীর মতে, বড়দের তুলনায় শিশুদের শরীরে দূষিত বাতাসের প্রভাব বেশি পড়ে। কারণ তাদের ফুসফুস এখনও সম্পূর্ণ গড়ে ওঠেনি, আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তৈরি হয়নি। শিশুরা বড়দের চেয়ে দ্রুত শ্বাস নেয়। ফলে শরীরের ওজনের তুলনায় তারা বেশি দূষিত কণা টেনে নেয় ফুসফুসে। এই ক্ষুদ্র কণাগুলো নাক ও শ্বাসনালিতে ঢুকে প্রথমে জ্বালা সৃষ্টি করে, পরে শ্বাসনালি ফুলে যাওয়া, দুর্বলতার কারণ হয়। দীর্ঘদিনের প্রভাবে শ্বাসনালির স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সহজেই শরীরে ঢুকে পড়ে।
শুধু তাই নয়, দূষণ শরীরের প্রতিরোধ কোষগুলোর কাজেও বাধা দেয়। ফলে সাধারণ সর্দি–কাশিও সেরে উঠতে সময় লাগে বেশি। অনেক সময় দেখা যায়, সুস্থ হওয়ার কিছুদিন পরই আবার বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু আগে থেকেই হাঁপানি, অ্যালার্জি বা সংবেদনশীল ফুসফুসের সমস্যায় ভোগে, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। এমনকী একেবারে সুস্থ শিশুর মধ্যেও নতুন করে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কানের সংক্রমণ ও বুকে সংক্রমণও বাড়ছে।
স্কুল, খেলা, বাইরে যাতায়াত সব মিলিয়ে বাচ্চারা খোলা বাতাসে বেশি সময় কাটায়। উচ্চ AQI-র জন্য সেই সময়টাই হয়ে উঠছে বিপজ্জনক। ঘরের ভিতর থাকলেও পুরো সুরক্ষা নেই; জানলা–দরজা ও বায়ু চলাচলের পথ দিয়ে দূষণ ঢুকে পড়ে।
তাহলে উপায়? বাইরে খুব বেশি ধোঁয়াশা দেখলে বাচ্চার বাইরে খেলা সীমিত করা জরুরি। দূষণ বেশি থাকলে জানলা বন্ধ রাখা, প্রয়োজনে বাতাস পরিশোধক ব্যবহার করা যেতে পারে। বাচ্চাকে বাইরে থেকে আসার পর হাত,মুখ ধোয়ার অভ্যাস করানো দরকার। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত টিকা শিশুর রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
