
কথায় আছে, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’। অনেকেরই সকাল শুরু হয় এক গ্লাস আমলকীর রস দিয়ে। আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে আধুনিক ডায়েট চার্ট—সব জায়গাতেই আমলকীকে রাখা হয় ‘সুপারফুড’-এর তালিকায়। ভিটামিন-সি আর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের খনি এই ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা জেনে খাচ্ছেন তো? সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। যে আমলকী শরীরকে চনমনে রাখে, সেই আমলকীই নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য হয়ে উঠতে পারে বিষের সমান। বিশেষ করে খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে এই ফল খেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে এর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।
কাদের জন্য আমলকী বিপজ্জনক?
রক্তে শর্করার মাত্রা যাদের কম:
আমলকী সাধারণত সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিন্তু যাঁদের ব্লাড সুগার লেভেল এমনিতেই কম (Hypoglycemia), তাঁরা অতিরিক্ত আমলকী খেলে বিপদে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে হুট করে সুগার লেভেল অস্বাভাবিক কমে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কিডনির রোগীদের বাড়তি সতর্কতা:
আমলকীতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং অক্সালেট (Oxalate) থাকে। যাঁদের কিডনিতে পাথরের সমস্যা রয়েছে বা যারা কিডনি জনিত দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য এই ফলটি যম হয়ে দাঁড়াতে পারে। অক্সালেট পাথর জমার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
সার্জারির আগে বা পরে:
আপনার কি সম্প্রতি কোনও অস্ত্রোপচার হয়েছে বা হওয়ার কথা রয়েছে? তবে আমলকী থেকে দূরে থাকাই মঙ্গল। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আমলকী রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। ফলে অস্ত্রোপচারের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, যেকোনও অপারেশনের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে থেকে আমলকী খাওয়া বন্ধ রাখা উচিত।
অ্যাসিডিটি ও পেটের গোলযোগ:
আমলকী স্বাদে টক এবং প্রকৃতিগতভাবে অ্যাসিডিক। যাদের বুক জ্বালাপোড়া বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা প্রবল, খালি পেটে আমলকী খেলে তাদের অস্বস্তি কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। এতে থাকা ফাইবার হজমে সাহায্য করলেও, অতিরিক্ত অ্যাসিড পেটের আলসারের রোগীদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।
লিভারের সমস্যায় যারা ভুগছেন:
আমলকী লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু আদা বা গোলমরিচের সঙ্গে মিশিয়ে অতিরিক্ত আমলকী খেলে তা লিভারের এনজাইমের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোনও খাবারই সবার জন্য সমান নয়। আমলকীর হাজার গুণ থাকলেও নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে তবেই এটি ডায়েটে রাখা উচিত। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত কোনও জটিল রোগের ওষুধ খাচ্ছেন, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আমলকীকে ‘সুপারফুড’ ভেবে প্রতিদিন খাবেন না। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।