e

আজকাল অনেকেই ভাবেন ৩০ বা ৩৫‑এ গিয়ে যখন ত্বকে বয়সের চাপ পড়বে তখন নতুন কোনো ‘মিরাকেল সিরাম’ লাগালেই বয়স লাগবে একেবারে কম। তাই অল্পবয়সে ত্বকের যত্ন অনেকেই করেন না। কিন্তু জানেন কি অল্প বয়সে ত্বকের যত্ন না করলে কী কী বিপদ আসবে? কিন্তু নতুন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের রিসার্চ অনুযায়ী ত্বকের বয়স রোধ করার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র এখনই শুরু‑ করা সঠিক দৈনন্দিন অভ্যাস। চিকিৎসকদের মতে, ত্বকের ক্ষতি শুরু হয় অনেক আগে বিশেষ করে ১৮ – ২০ বছর বয়সে জীবনযাপনের বড় পরিবর্তন হয়। কলেজ জীবন, পছন্দের চাকরি পাওয়ার জেদ এসবের মধ্যে থাকতে গিয়ে অনেকেই ত্বকের যত্ন একেবারেই নেন না। আর তাতেই ঘটতে পারে বিপদ।
বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ২০-এর দশকে স্কিন কেয়ার করা মানে ভবিষ্যতের ত্বককে সুরক্ষিত করা কারণ এই বয়সে ত্বক নিজে থেকেই অনেক কোলাজেন তৈরি করে, কিন্তু সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও বেঠিক জীবনযাপনের কারণে সেই কোলাজেন ধীরে ধীরে কমতে পারে। সঠিক রুটিন এই বয়সেই মানলে বয়সের ছাপ পড়ে অনেক দেরিতে।
ত্বকের বয়স বাড়ার মূল কারণগুলোর মধ্যে একটি হল সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মি। সারাদিন বাইরে ঘুরলে বা রোদে বেরোনোর সময় সানস্ক্রিন না লাগালে ত্বকের কোলাজেন এবং ইলাস্টিসিটি দ্রুত কমে যায়। ত্বক পাতলা ও নিস্তেজ হয়ে যায় এবং বলিরেখা ও দাগ দেখা যায়। এই পরিবর্তন লক্ষণীয় না হলেও ধীরে ধীরে জমে থাকে এবং ৩০–৪০ এ এসে স্পষ্ট দেখা লক্ষণ।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, UV রশ্মির বার্ধক্যজনিত ক্ষতি ২০ বছর বয়স থেকে শুরু হলেও আগে থেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে সেই পরিবর্তন কমে যায়। একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, প্রতিদিন SPF 30+ সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে বলিরেখা, ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়ার প্রবণতা ও বয়সের ছাপ পড়া অনেকাংশে কমানো যায়।
শরীরের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য ত্বকের সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। ঘুম না হলে ত্বক নিজেকে ঠিক মতো পুনরুদ্ধার করতে পারে না; অপর্যাপ্ত জলপান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাদ্য না খেলে ত্বক শুষ্ক ও বলিরেখাযুক্ত হয়ে যায় আর মানসিক চাপ কোলাজেন ভাঙায়।
ভারতের স্কিন কেয়ার ট্রেন্ড বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, জেন-জেড ও মিলেনিয়ালরা আজ বয়স কমানোর ত্বকের যত্নের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে, সাধারণ জীবনযাপনের পাশাপাশি ত্বকের ক্ষতি কমাতে সচেতন হচ্ছে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে মার্কেটিংয়ের প্রভাব রয়েছে। তবে ডাক্তাররা বলছেন সানস্ক্রিন, সাধারণ ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজারের মতো সাধারণ কিছু অভ্যাস শুরু করলে দীর্ঘমেয়াদি লাভ রয়েছে।
১৮ থেকে ২০ পর্যন্ত বয়সে স্কিন কেয়ার কেন জরুরি?
এই বয়স অবধি ত্বক সবচেয়ে বেশি ভালো থাকে। তাই এই বয়স থেকে ত্বকের যত্ন করলে ভবিষ্যতে তার প্রভাব পড়ে।
যত্ন না নিলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতি জমে যায় এবং পরে বার্ধক্যের কারণ হয়।
ঘুম, খাদ্যাভ্যাস ও স্ট্রেস সবই ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে।