বিয়ের শপিং শুরুর আগে ঘরে আনুন এই ৫টি জিনিস, নইলে বিপদ!
যেকোনও শুভ কাজের শুরুতেই আমরা গণেশ বন্দনা করি। শাস্ত্র মতে, বিয়ের কেনাকাটা শুরুর আগে বাজার থেকে একটি সুপারি কিনে আনুন এবং তা ভক্তিভরে গণেশের চরণে অর্পণ করুন। বিশ্বাস করা হয়, এতে সিদ্ধিদাতা গণেশ তুষ্ট হন এবং বিয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনওরকম ঝামেলার ছায়া পড়তে দেন না। গণেশের কৃপায় দাম্পত্যে সুখের অভাব হয় না কখনও।

সানাই বাজার প্রস্তুতি শুরু? কার্ড ছাপানো থেকে মেনু কার্ড, বিয়ের শপিং, আত্মীয়দের জন্য কেনাকাটা- সব মিলিয়ে ফর্দ লম্বা হতে শুরু করেছে? কিন্তু জানেন কি, বেনারসি কিংবা বরের পাঞ্জাবি কিনতে শপিং মলে ঢোকার আগে বাঙালির শাস্ত্র মতে বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে? হিন্দু শাস্ত্র জানাচ্ছে, বিয়ের প্রথম কেনাকাটাটি করার আগে বাড়িতে ৫টি শুভ জিনিস নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। মনে করা হয়, এই সাধারণ টোটকাগুলি মানলে বিয়ের আয়োজনে কোনও বাধা আসে না এবং হবু দম্পতির ভবিষ্যৎ জীবন হয় নিঝঞ্ঝাট।
শপিং ব্যাগ হাতে বেরোনোর আগে জ্যোতিষ মতে কোন ৫টি জিনিস আপনার তালিকায় থাকা মাস্ট? দেখে নিন একনজরে:
বিঘ্নহর্তার আশীর্বাদে সুপারি
যেকোনও শুভ কাজের শুরুতেই আমরা গণেশ বন্দনা করি। শাস্ত্র মতে, বিয়ের কেনাকাটা শুরুর আগে বাজার থেকে একটি সুপারি কিনে আনুন এবং তা ভক্তিভরে গণেশের চরণে অর্পণ করুন। বিশ্বাস করা হয়, এতে সিদ্ধিদাতা গণেশ তুষ্ট হন এবং বিয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনওরকম ঝামেলার ছায়া পড়তে দেন না। গণেশের কৃপায় দাম্পত্যে সুখের অভাব হয় না কখনও।
কুনজর কাটাতে মোক্ষম হাতিয়ার: নুন
বিয়ের বাড়ি মানেই অগুন্তি লোকের আনাগোনা। আর ভিড় বাড়লে ‘নজর’ লাগার ভয়ও থেকে যায়। কেনাকাটা বা ঘর সাজানোর কাজ শুরুর আগেই এক প্যাকেট নুন কিনে আনুন। তবে মনে রাখবেন, এই নুন কিন্তু রান্নাঘর থেকে নেওয়া চলবে না। নতুন কেনা নুন একটি বাটিতে ভরে সদর দরজার পাশে রাখুন। প্রতি সপ্তাহে এই নুন বদলে বাইরে ফেলে দিন। এতে বাড়ির সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হবে এবং বিয়ের আনন্দ অটুট থাকবে।
সম্পর্কের মাধুর্য বজায় রাখবে গুড়
সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যেন সারাজীবন মিষ্টি ভাব বজায় থাকে, তার জন্য কেনাকাটা শুরুর আগেই ঘরে আনুন গুড়। জ্যোতিষ মতে, গুড় লক্ষ্মীদেবীকে অর্পণ করলে মঙ্গলের অশুভ প্রভাব কাটে। ফলে বিয়ের পর দম্পতির মধ্যে ছোটখাটো অশান্তি হওয়ার সম্ভাবনা কমে এবং সম্পর্কের মিষ্টত্ব বজায় থাকে আজীবন।
রক্ষাকবচ হিসেবে রঙিন সুতো
হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন রঙের পবিত্র সুতোর মাহাত্ম্য অপরিসীম। কেনাকাটার শুভ মহরৎ করার আগে দোকান থেকে কিছু রঙিন সুতো কিনে ঠাকুরের সিংহাসনে ছুঁইয়ে রাখুন। এরপর যাঁর বিয়ে হচ্ছে, তাঁকে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে সেই সুতো হাতে পরিয়ে দিন। এটি মূলত একটি আধ্যাত্মিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে, যা হবু বর বা কনেকে যেকোনও নজরদোষ বা নেতিবাচক শক্তি থেকে রক্ষা করবে।
শুভ সূচনায় কুমকুম
হিন্দু ধর্মে সৌভাগ্যের প্রতীক হল কুমকুম। বাজার থেকে টাটকা কুমকুম কিনে এনে মা লক্ষ্মীর চরণে রেখে দিন। এরপর বিয়ের প্রথম কার্ডটি যখন বাড়িতে আসবে, সেই কুমকুমের টিপ প্রতিটি কার্ডে লাগিয়ে দিন। এতে কেবল কেনাকাটাই নয়, বিয়ের প্রতিটি নিমন্ত্রণও শুভ বার্তা বয়ে আনবে এবং বিবাহিত জীবন হবে আনন্দময়।
