
রাতে হালকা কিছু খেলেন, তারপরই বুকজ্বালা আর পেট ফাঁপা—চেনা সমস্যা? আজকাল অল্প বয়সেও অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিক যেন নিত্যসঙ্গী। বেশিরভাগ মানুষ প্রথমেই ওষুধের দিকে ছুটছেন। কিন্তু চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই রোজের রুটিনে সহজ বদল আনলেই এই অস্বস্তি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত খাবার খাওয়া, তাড়াহুড়ো করে খাওয়া, অতিরিক্ত ঝাল-মশলাদার খাবার খাওয়া এবং কম জল পান—এই চার অভ্যাসই অ্যাসিডিটির বড় ট্রিগার। তবে সমাধান মিলবে ঘরোয়া টোটকাতেই।
প্রথমেই নজর দিতে হবে খাওয়ার ধরণে। খুব দ্রুত খাবার গিলে ফেললে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হয়। তাই ধীরে, ভালো করে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং বুকের জ্বালাভাবও কমে।
আরও একটি সহজ টিপস সকালে খালি পেটে হালকা গরম জল খান। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত গরম জল খেলে হজম ভালো হয়। পেটে অ্যাসিডও জমতে পারে না। ঘরোয়া উপায়ের তালিকায় মৌরি ও আদা দীর্ঘদিনের সঙ্গী। খাবারের পর সামান্য মৌরি চিবোলে গ্যাস ও ফাঁপা ভাব কমে। অন্যদিকে অল্প আদা পেটের অস্বস্তি কমায়।
পেট ঠান্ডা রাখতে পুদিনা পাতা বা জিরা ভেজানো জল বেশ উপকারী। এগুলো হজমে সাহায্য করে এবং অ্যাসিডিটির জ্বালাও কমায়। অনেকের ক্ষেত্রে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ বা ডাবের জলও দ্রুত আরাম দেয়। তবে শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনেও বদল জরুরি। রাত করে ভারী খাবার, খাওয়ার পরই শুয়ে পড়া বা অতিরিক্ত সফট ড্রিঙ্ক—এই অভ্যাস থাকলে অ্যাসিডিটি বাড়বে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শোওয়ার অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া সেরে ফেলুন এবং খাওয়ার পর কিছুক্ষণ সোজা হয়ে বসুন।
যদি বারবার বুকজ্বালা করে, অকারণে ওজন কমা বা বমির সমস্যা দেখা দেয়, তখন দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের।