AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

দুপুর গড়ালেই ঘুমের চোটে কাজে মন বসে না? রইল ডেস্কে বসেই ঘুম তাড়ানোর ৫টি অব্যর্থ ‘ম্যাজিক’ টোটকা

অনেক সময় ক্লান্তি মানেই ঘুমের অভাব নয়, বরং শরীরের জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ। শরীরে জলের অভাব হলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায়, ফলে মস্তিষ্ক সজাগ থাকতে পারে না। ডেস্কে সবসময় কাচের বোতলে জল রাখুন। সামান্য জল খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে এবং ঝিমুনি কাটিয়ে কর্মক্ষমতা বাড়াবে।

দুপুর গড়ালেই ঘুমের চোটে কাজে মন বসে না? রইল ডেস্কে বসেই ঘুম তাড়ানোর ৫টি অব্যর্থ ‘ম্যাজিক’ টোটকা
Image Credit: AI
| Updated on: Mar 17, 2026 | 6:59 PM
Share

সকাল সকাল ফিটফাট হয়ে অফিসে ঢোকার পর ঘণ্টা তিনেক কাটে ঝড়ের গতিতে। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা দুপুর ২টো পেরোলেই যেন সব ওলটপালট হয়ে যায়। দুপুরের ভারী লাঞ্চের পর ডেস্কে বসে কাজ করতে গেলেই একরাশ ক্লান্তিতে চোখ জুড়িয়ে আসে অনেকেরই। কম্পিউটারের স্ক্রিনটা ঝাপসা হতে থাকে, আর কিবোর্ডের বদলে মন পড়ে থাকে বিছানায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘আফটারনুন স্লাম্প’। এই ঝিমুনি কাটাতে অনেকেই বারবার চা বা কফিতে চুমুক দেন ঠিকই, কিন্তু তাতে সাময়িক কাজ হলেও স্নায়ুর ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ পড়ে।

অথচ খাবার বা ক্যাফিনের ওপর নির্ভর না করে স্রেফ অভ্যাসের কিছু ছোট রদবদল করলে এই ঝিমুনিকে টা-টা জানানো সম্ভব। ডেস্কে বসেই এনার্জি ফিরে পাওয়ার ৫টি সহজ উপায় রইল আপনার জন্য-

‘২০-২০-২০’ নিয়ম ও চোখের আরাম

টানা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে অপটিক নার্ভ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে ব্রেন বিশ্রাম নিতে চায়। তাই প্রতি ২০ মিনিট অন্তর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরের কোনও বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। মাঝে মাঝে চোখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিয়ে ধুয়ে নিলে স্নায়ু সতেজ হয় এবং ঝিমুনি ভাব নিমেষে কেটে গিয়েছে বলে মনে হবে।

হাইড্রেটেড থাকা জরুরি

অনেক সময় ক্লান্তি মানেই ঘুমের অভাব নয়, বরং শরীরের জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ। শরীরে জলের অভাব হলে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয়ে যায়, ফলে মস্তিষ্ক সজাগ থাকতে পারে না। ডেস্কে সবসময় কাচের বোতলে জল রাখুন। সামান্য জল খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে এবং ঝিমুনি কাটিয়ে কর্মক্ষমতা বাড়াবে।

‘ওয়াক অ্যান্ড টক’ পদ্ধতি

এক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শরীরে মেলানিন বা ঘুমের হরমোন বাড়তে থাকে। তাই ঝিমুনি আসলে সিট ছেড়ে একটু উঠে দাঁড়ান। সহকর্মীর সঙ্গে জরুরি কোনও আলোচনা থাকলে সেটা বসে না করে পায়চারি করতে করতে সেরে ফেলুন। মাত্র ৫ মিনিটের হাঁটাহাঁটিতেই শরীরে এনার্জি আসবে।

সাইট্রাস ঘ্রাণের রিফ্রেশমেন্ট

ঘ্রাণশক্তি আমাদের মস্তিষ্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অফিসের ব্যাগে ছোট এক শিশি লেবু বা মেন্থলের (Peppermint) এসেনশিয়াল অয়েল রাখতে পারেন। খুব ঘুম পেলে সামান্য ঘ্রাণ নিন। এর কড়া গন্ধ সরাসরি মস্তিষ্কের ‘অ্যালার্টনেস’ কেন্দ্রকে সজাগ করে তোলে। একে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যারোমাথেরাপি’ বলা হয়, যা মনোযোগ ফেরাতে দারুণ কার্যকর।

ডিপ ব্রিদিং বা ‘বক্স ব্রিদিং’

ডেস্কে বসেই সোজা হয়ে বসে চোখ বন্ধ করুন। চার সেকেন্ড ধরে গভীর শ্বাস নিন, চার সেকেন্ড ধরে রাখুন এবং চার সেকেন্ড ধরে ছাড়ুন। এই পদ্ধতিতে ফুসফুসে প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং শরীর থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড বেরিয়ে যায়। এটি আপনার ঝিমিয়ে পড়া মস্তিষ্ককে রিচার্জ করার সবথেকে দ্রুত ও সহজ উপায়।

অফিস মানেই যে শুধু একঘেয়ে কাজ আর ক্লান্তি, তা কিন্তু নয়। স্রেফ এই ছোট ছোট বদল আনলেই কাজে মন বসবে।

Follow Us