
সারাদিনের ক্লান্তির শেষে রাতের ঘুমটা সবচেয়ে দামি। মধ্যরাতে গরমে হঠাৎ ঘামা , আবার কিছুক্ষণ পরেই ঠান্ডায় কাঁপুনি—এই টানাপোড়েনেই অনেকের ঘুম নষ্ট হয়। আধঘুমে উঠে রেগুলেটর ঘোরানো, আবার শুয়ে পড়া এর মধ্যেই অনেকের নষ্ট হয়ে যায় ঘুম।যাদের ঘুমের সমস্যা তাঁদের তো আর ঘুম আসতেই চায় না। আর তাতেই অনেকেই বেশ বিরক্ত হন। এই বিরক্তিকর সমস্যারই অভিনব সমাধান খুঁজে বের করলেন ব্যাঙ্গালুরুর এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই নাকি এমন ভাবনা মাথায় এসেছে তাঁর। মাঝরাতে কখনও বেশি গরম, কখনও বেশি ঠান্ডা লাগছে—কিন্তু ঘুম ভেঙে পাখার গতি ঠিক করতে ইচ্ছে করছে না। এই টানাপোড়েনের মধ্যে পরেই সেই ইঞ্জিনিয়ারের মাথায় আসে, যদি এমন কিছু বানানো যায় যা নিজেই বুঝবে শরীরের অবস্থা? সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় ‘এআই রুমমেট’—একটি স্মার্ট সিস্টেম, যা ঘুমের ভঙ্গি দেখেই পাখার গতি বাড়াতে বা কমাতে পারে। ভাবছেন নিশ্চয়ই এও কি সম্ভব?
কীভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা? ঘরের মধ্যে লাগানো একটি ক্যামেরা ঘুমন্ত ব্যক্তির শরীরের ভঙ্গি পর্যবেক্ষণ করে। বিশেষ ভিশন মডেলের সাহায্যে বোঝা হয়—হাত বা পা কম্বলের বাইরে বেরিয়ে আছে কি না। যদি বেরিয়ে থাকে, সিস্টেম ধরে নেয় শরীরে গরম লাগছে। সঙ্গে সঙ্গে পাখার গতি বাড়িয়ে দেয়। আর যদি শরীর গুটিয়ে থাকে, হাত-পা ভাঁজ করা অবস্থায় থাকে, তখন বুঝে নেয় ঠান্ডা লাগছে—ফ্যানের গতি কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়।
আর এই গোটা প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তি ও একটি ছোট হোম সার্ভার সেটআপ। ফ্যানের সুইচে যুক্ত একটি ছোট যন্ত্র নির্দেশ পেলেই বোতাম টিপে দেয়—ঠিক যেন কেউ পাশে দাঁড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রযুক্তিকর্মী নিজেই সোশ্যাল মাধ্যমে এই উদ্ভাবনের ভিডিও শেয়ার করেন। মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়। অনেকে প্রশংসা করেছেন, কেউ কেউ আবার গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—ক্যামেরা নজরদারি কতটা নিরাপদ?
তবে নির্মাতার দাবি, পুরো ব্যবস্থাটি স্থানীয় নেটওয়ার্কে চলে, কোনও তথ্য বাইরে যাবে না। অনেকেই তাঁকে অনুরোধ করেছেন কোড প্রকাশ করতে, যাতে অন্যরাও এমন ব্যবস্থা বানাতে পারেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিগগিরই হয়তো কোড শেয়ার করবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট হোম প্রযুক্তি এখন দ্রুত এগোচ্ছে। আলো, দরজা, ক্যামেরার পর এবার ঘুমের আরামও প্রযুক্তির হাতে। বড় সংস্থার তৈরি দামি যন্ত্র নয়—একজন সাধারণ প্রযুক্তিপ্রেমীর হাত ধরে এমন উদ্ভাবনের প্রশংসা করেছেন অনেকেই।এখন অপেক্ষা এই অভিনব প্রযুক্তি বাজারে আসার