AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

প্রোটিন পাউডার কেনার আগে সাবধান! অজান্তে বিষ গিলছেন না তো?

পাউডারের কৌটোর গায়ে লেখা উপাদানের তালিকাটি খুঁটিয়ে দেখা সবথেকে জরুরি। প্রোটিন পাউডার সাধারণত হুই (Whey), সয়া, মটরশুঁটি কিংবা চাল থেকে তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সমস্ত পাউডারে দানাশস্য বা মটরশুঁটির ব্যবহার বেশি, সেগুলো শরীরের জন্য অনেকটা নিরাপদ। এই উপাদানগুলোতে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডও পাওয়া যায় পর্যাপ্ত পরিমাণে।

প্রোটিন পাউডার কেনার আগে সাবধান! অজান্তে বিষ গিলছেন না তো?
| Updated on: Mar 26, 2026 | 4:18 PM
Share

বডি বিল্ডিং হোক বা ডায়েট- আজকের প্রজন্মের কাছে প্রোটিন শেক এখন ডাল-ভাতের মতোই অতি পরিচিত। জিমে যাওয়ার পর এক স্কুপ প্রোটিন পাউডার গুলে খেয়ে নেওয়াটা প্রায় অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু যে পানীয়কে আপনি স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি ভাবছেন, তার মধ্যেই কি লুকিয়ে রয়েছে প্রাণঘাতী বিষ? সম্প্রতি ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’-এর একটি গবেষণা ঘুম উড়িয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনদের। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বাজারের জনপ্রিয় প্রায় ২৩টি ব্র্যান্ডের প্রোটিন পাউডারে মিশে রয়েছে সিসা (Lead) এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু। যা আপনার লিভার, কিডনি থেকে শুরু করে স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে। তাই পরের বার কৌটো খোলার আগে বা নতুন পাউডার কেনার সময় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মিলিয়ে নিন।

প্রোটিনের আসল উৎস কী?

পাউডারের কৌটোর গায়ে লেখা উপাদানের তালিকাটি খুঁটিয়ে দেখা সবথেকে জরুরি। প্রোটিন পাউডার সাধারণত হুই (Whey), সয়া, মটরশুঁটি কিংবা চাল থেকে তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে সমস্ত পাউডারে দানাশস্য বা মটরশুঁটির ব্যবহার বেশি, সেগুলো শরীরের জন্য অনেকটা নিরাপদ। এই উপাদানগুলোতে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডও পাওয়া যায় পর্যাপ্ত পরিমাণে। তাই কেনার আগে দেখে নিন আপনার প্রোটিন পাউডারটি উদ্ভিদজাত নাকি প্রাণিজ।

একটি উচ্চমানের প্রোটিন পাউডারের প্রতি চামচে (Scoop) অন্তত ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ প্রোটিন থাকা উচিত। যদি দেখেন এক চামচ পাউডারে প্রোটিনের পরিমাণ তার চেয়ে অনেক কম, তবে বুঝবেন ওই ব্র্যান্ডটি সস্তা এবং অকেজো ‘ফিলার’ ব্যবহার করছে। অর্থাৎ, প্রোটিনের নাম করে আপনি এমন কিছু খাচ্ছেন যা শরীরের কোনও কাজেই লাগে না, উল্টে হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

ভেজালের যুগে হুজুগে পড়ে প্রোটিন শেক খাওয়া বন্ধ করা দরকার। আপনি কি পেশি বাড়াতে চান, নাকি স্রেফ ওজন কমাতে? নাকি কোনও অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হতে এটি খাচ্ছেন? কারণভেদে প্রোটিনের ধরণ পালটে যায়। মনে রাখবেন, মাছ, মাংস, ডিম বা ডালের মতো সাধারণ খাবার থেকেও প্রোটিনের ঘাটতি মেটানো সম্ভব। তাই অকারণ নেশার মতো সাপ্লিমেন্ট না খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

স্বাদ বাড়াতে অনেক কোম্পানি প্রোটিন পাউডারে প্রচুর পরিমাণ চিনি বা কৃত্রিম শর্করা (Artificial Sweeteners) মিশিয়ে দেয়। এটি আপনার ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে ডায়াবেটিস বা স্থূলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পাউডারের উপাদানে যদি ‘অ্যাডেড সুগার’ দেখেন, তবে সেই কৌটোটি এড়িয়ে চলাই উচিত। প্রাকৃতিক স্বাদ বা জিরো-ক্যালোরি সুইটনার থাকলেও তার মাত্রা যাচাই করে নিন। আপনার সুস্থতা আপনার হাতেই। তাই সস্তার বিজ্ঞাপনে না ভুলে ল্যাবে পরীক্ষিত এবং শংসাপত্র আছে এমন ব্র্যান্ডই বেছে নিন। কারণ, স্বাস্থ্য একবার ১২টা বাজলে তা কোনও দামী পাউডার দিয়ে ফেরানো সম্ভব নয়।

Follow Us