
বসন্তকাল আসা মানেই ঘরে ঘরে চিকেন পক্সের আতঙ্ক দেখা যায়। সকলেই চান, চিকেন পক্স যেন না হয়। বিজ্ঞান বলছে, সঠিক খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সংক্রমণের ঝুঁকি ও জটিলতা অনেকটাই কমাতে পারে। ভ্যারিসেলা-জস্টার ভাইরাসের আক্রমণে চিকেন পক্স হয়। এই ভাইরাস বাতাসে ছড়ায়। তাই শরীরকে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) জানিয়েছে, সুষম পুষ্টি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অপুষ্টি থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
চিকেন পক্স থেকে বাঁচার জন্য কী কী খাবেন?
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল: আমলকি, কমলা, পেয়ারা, লেবু—এসব ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভিটামিন সি শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতা বাড়ায়, যা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার: গাজর, মিষ্টি কুমড়ো, পালং শাক অবশ্যই খাওয়া উচিৎ। ভিটামিন এ ত্বক ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিকে (শরীরের অভ্যন্তরীণ গহ্বর এবং অঙ্গগুলোর যেমন- মুখ, নাক, ফুসফুস, পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণ, যা শ্লেষ্মা বা মিউকাস নামক পিচ্ছিল তরল উৎপন্ন করে) সুস্থ রাখে।
প্রোটিন: শরীরের প্রতিরোধী কোষ তৈরি ও মেরামতে প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি। তাই ডিম, ডাল, ছানা, মাছ প্রতিদিন খাবার রুটিনে রাখতে হবে। বহু পুষ্টিবিজ্ঞান গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
দই ও প্রোবায়োটিক খাবার: অন্ত্র রোগ প্রতিরোধে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। ভালো ব্যাকটেরিয়া সমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
বাদাম ও বীজ: কাঠবাদাম, আখরোট, সূর্যমুখী বীজ এগুলোতে ভিটামিন ই আছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কী কী খাবার এড়াবেন?
অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত ভাজাভুজি একেবারেই খাওয়া উচিৎ নয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত চিনি শ্বেত রক্তকণিকার কার্যক্ষমতা সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
তবে শুধু খাবার খেয়ে চিকেন পক্স শতভাগ আটকানো সম্ভব নয়। টিকা নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সঠিক পুষ্টি শরীরকে এমনভাবে তৈরি রাখে, যাতে সংক্রমণ হলেও জটিলতার ঝুঁকি কম থাকে।