AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

নিখুঁত স্তন আর সুন্দর নিতম্বের নেশায় মৃত মানুষের চর্বি শরীরে ঢোকাচ্ছেন মহিলারা! হইহই কান্ড

যাঁদের শরীরে বাড়তি মেদ বলতে কিচ্ছু নেই, অথচ শরীরকে সুঠাম করতে চাইছেন— তাঁরা এই পদ্ধতির শরণাপন্ন হচ্ছেন। অনেকে আবার জিম বা ডায়েট করে হঠাৎ ওজন কমিয়ে ফেলার পর শরীরের লাবণ্য হারিয়ে ফেলেন। তাঁদের হারানো জৌলুস ফেরাতেও এই ‘ডেড ফ্যাট’ বা মৃতদেহের চর্বি কাজে লাগানো হচ্ছে।

নিখুঁত স্তন আর সুন্দর নিতম্বের নেশায় মৃত মানুষের চর্বি শরীরে ঢোকাচ্ছেন মহিলারা! হইহই কান্ড
খরচ ও ঝুঁকি দুই-ই মারাত্মক
| Updated on: Apr 09, 2026 | 6:44 PM
Share

সৌন্দর্যের কি কোনও শেষ সীমানা আছে? নাকি নিখুঁত শরীর পাওয়ার বাসনায় মানুষ যে কোনও চরম সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হয় না? সম্প্রতি মার্কিন মুলুকে এমন এক কসমেটিক ট্রেন্ড দানা বেঁধেছে, যা শুনলে গায়ে কাঁটা দিতে পারে। শরীরকে আকর্ষণীয় শেপ দিতে এখন নাকি ব্যবহার করা হচ্ছে মৃতদেহের চর্বি! শুনতে সিনেমার প্লট মনে হলেও, এটাই এখন বিদেশের বাজারের লেটেস্ট রূপচর্চা। আর এই অদ্ভুত পদ্ধতি নিয়েই এখন নেটদুনিয়ায় বইছে বিতর্কের ঝড়।

সহজ কথায় বললে, অন্যের দান করা মৃতদেহ থেকে চর্বি সংগ্রহ করে তা জীবিত মানুষের শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেউ যদি নিতম্ব বা স্তনের আকার বাড়াতে চান, অথবা পেটের বা পায়ের বিশেষ কোনও অংশের ‘ভলিউম’ বাড়াতে চান তাহলে অনেকেই এই পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে দাতার দেহ থেকে নেওয়া চর্বিকে প্রথমে ল্যাবে নিয়ে গিয়ে ভালো করে স্টেরিলাইজ বা জীবাণুমুক্ত করা হয়। এরপর সেখান থেকে ডিএনএ এবং সমস্ত জীবন্ত কোষ বের করে নিয়ে তা ইনজেকশন দেওয়ার উপযোগী করা হয়। ফলে গ্রহীতার শরীরে কোনও অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় কম থাকে বলে দাবি করা হচ্ছে।

কাদের জন্য এই পদ্ধতি?

যাঁদের শরীরে বাড়তি মেদ বলতে কিচ্ছু নেই, অথচ শরীরকে সুঠাম করতে চাইছেন— তাঁরা এই পদ্ধতির শরণাপন্ন হচ্ছেন। অনেকে আবার জিম বা ডায়েট করে হঠাৎ ওজন কমিয়ে ফেলার পর শরীরের লাবণ্য হারিয়ে ফেলেন। তাঁদের হারানো জৌলুস ফেরাতেও এই ‘ডেড ফ্যাট’ বা মৃতদেহের চর্বি কাজে লাগানো হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এতে বড় কোনও অস্ত্রোপচার লাগে না, এমনকি অজ্ঞান করারও প্রয়োজন পড়ে না। ক্লিনিক থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ সেরে বাড়ি ফেরা সম্ভব।

খরচ ও মারাত্মক ঝুঁকি

সুবিধা অনেক থাকলেও এর খরচ শুনলে কপালে চোখ উঠবে। এই প্রক্রিয়ায় পকেট থেকে খসতে পারে ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ডলার পর্যন্ত। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় কয়েক লক্ষ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি!

তবে এই চমকপ্রদ পদ্ধতির আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ানক বিপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে:

ফ্যাট এম্বোলিজম:

ভুলবশত যদি এই চর্বি রক্তনালীতে ঢুকে যায়, তবে তা সরাসরি হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুসে গিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে।

ক্যানসারের ঝুঁকি:

স্তনে এই ফ্যাট ইনজেক্ট করলে ভবিষ্যতে ম্যামোগ্রাম বা ক্যানসার পরীক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ জমে থাকা চর্বি অনেক সময় ক্যানসার টিউমারকে আড়াল করে দিতে পারে।

সংক্রমণ: ল্যাবে পরিশোধিত হলেও সংক্রমণের ভয় পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞানচর্চার জন্য মানুষ দেহদান করেন ঠিকই, কিন্তু সেই দেহ থেকে চর্বি নিয়ে কারও নিতম্ব বা স্তন বাড়ানো হবে— এমনটা কি দাতা বা তাঁর পরিবার মেনে নেবেন? এই নিয়ে নীতি-পুলিশদের মধ্যে তুমুল তরজা শুরু হয়েছে। প্রযুক্তির দৌলতে মানুষ অমর হওয়ার স্বপ্ন দেখে, কিন্তু মৃত মানুষের অংশ নিয়ে সুন্দর হওয়ার এই লড়াই আদতে কতটুকু মানবিক, সেই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Follow Us