নাম বদলালে কি কর্মফল বদলায়? শাস্ত্র বলছে…
ভগবদ্গীতার ৩ নম্বর অধ্যায়ের, ৫ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে “কেউই এক মুহূর্তও কর্ম না করে থাকতে পারে না।” গীতার এই বাণী স্পষ্ট করে দেয় কর্মই মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, নাম নয়। অর্থাৎ শাস্ত্র অনুযায়ী নাম পরিবর্তনে কর্মফল সরাসরি বদলে যায় এমন কথা বলা হয়নি।

অনেকেই বিশ্বাস করেন—নাম বদলালে জীবন বদলে যায়। কারও মতে নামের অক্ষর বদলালেই ভাগ্য ঘুরে যায়, কেউ আবার ভাগ্য বদলানোর জন্য বদলান নামের বানান। আবার কেউ বলেন নাম শুধু পরিচয়, কর্মই আসল। তাহলে সত্যিটা কী? নাম বদলালে কি সত্যিই কর্মফল বদলায়? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে শাস্ত্র, পুরাণ এবং আধ্যাত্মিক দর্শনের কাছে। সিনে-দুনিয়ায় নাম শুধু পরিচয় নয়, অনেকের কাছে সেটা ভাগ্য বদলের প্রথম ধাপ। বলিউডের কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চন-এর নাম ছিল ইনকিলাব শ্রীবাস্তব। পরে কবি বাবা হরিবংশ রাই বচ্চনের ইচ্ছাতেই বদলে যায় নাম—হয়ে ওঠেন অমিতাভ বচ্চন। তারপর? ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অধ্যায় তৈরি করেন তিনি। এই তালিকায় আছেন আরও অনেকেই অক্ষয় কুমারের জন্ম নাম রাজীব ভাটিয়া, রজনীকান্তের নাম ছিল শিবাজি রাও গায়কওয়াড়, জন আব্রাহামের নাম ছিল ফরহান আব্রাহাম, কিয়ারা আডবাণীর নাম আলিয়া আডবাণী। নাম বদলের পর তাঁদের কেরিয়ার গ্রাফ যেভাবে উঁচুতে উঠেছে, তাতে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
শাস্ত্র কী বলে?
ভগবদ্গীতার ৩ নম্বর অধ্যায়ের, ৫ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে “কেউই এক মুহূর্তও কর্ম না করে থাকতে পারে না।” গীতার এই বাণী স্পষ্ট করে দেয় কর্মই মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, নাম নয়। অর্থাৎ শাস্ত্র অনুযায়ী নাম পরিবর্তনে কর্মফল সরাসরি বদলে যায় এমন কথা বলা হয়নি।
তাহলে নামের গুরুত্ব কোথায়?
শাস্ত্রে বলা হয়েছে, নাম হল ‘নাদ’ বা শব্দ-কম্পন। মাণ্ডূক্য উপনিষদ-এ শব্দ ও চেতনার সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে প্রতিটি নামের একটি কম্পন (Vibration) থাকে। সেই কম্পন মানুষের মন, আত্মবিশ্বাস ও চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে অর্থাৎ নাম কর্ম বদলায় না, কিন্তু নাম কর্ম করার মানসিক শক্তি বদলাতে পারে।
পুরাণে নাম বদলানোর উদাহরণ
পুরাণে দেখা যায়, নাম বদলানো মানেই বদলায় জীবনের দিশা নারদ তপস্যার পর দেবর্ষি নারদ, রামকৃষ্ণ পরবর্তীতে হন রামকৃষ্ণ পরমহংস তবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে নাম বদলেছে সাধনার পর, নাম বদলানোর জন্য সাধনা আসেনি।
আধ্যাত্মিক বিশেষজ্ঞদের মতে
“নাম হলো বাহন, কর্ম হল চালক।” নাম বদলালে মানুষের মধ্যে নতুন পরিচয়ের অনুভূতি আসে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে, নেতিবাচক স্মৃতি থেকে বেরোনোর মানসিক শক্তি তৈরি হয়,এই পরিবর্তনের ফলে কর্মের ধরণ বদলায়, আর তার ফলেই ফলাফল বদলাতে পারে কিন্তু সেটা নামের কারণে নয়, কর্মের পরিবর্তনের কারণে।
নাম বদলানো কি তাহলে বৃথা?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন একেবারেই বৃথা না তবে বদলাতে হবে অভ্যাস ও কর্ম সমস্ত কিছুই। গরুড় পুরাণ বলছে “কর্ম মানুষকে ত্যাগ করে না, যেমন ছায়া দেহকে ত্যাগ করে না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে শুধু নাম বদলালেই কর্মফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলায় না, নাম মানুষের মানসিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলে, কর্ম বদলালেই তবেই ভাগ্য ও ফল বদলায়।
