
স্মার্টফোন এখন জীবনের অঙ্গ। দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলা, স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা এমন কি কাজও, সব মিলিয়ে মোবাইল ছাড়া চলাই যেন অসম্ভব। এমনকি অনেকে এখন মোবাইলে পড়াশোনাও করেন। কিন্তু এই মোবাইল ঘাটার অভ্যাস কি ধীরে ধীরে ত্বকের ক্ষতি করছে? কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
মোবাইল থেকে ত্বকের ক্ষতি কীভাবে হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ফোন সরাসরি ত্বক “পুড়িয়ে” দেয় না, কিন্তু দীর্ঘদিনের ব্যবহার ত্বকের ওপর একাধিক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মোবাইল স্ক্রিন থেকে নির্গত ব্লু লাইট ত্বকের গভীর স্তরে পৌঁছাতে পারে। Journal of Investigative Dermatology-এ প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ব্লু লাইটের সংস্পর্শে ত্বকের কোলাজেন ভাঙতে পারে, প্রিম্যাচিউর এজিং (আগে বয়সের ছাপ) দেখা দিতে পারে, ডার্ক স্পট ও পিগমেন্টেশন বাড়তে পারে।
বেশিক্ষণ ফোনে কথা বললে ফোন গরম হয়। সেই তাপ সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে ত্বক শুষ্ক হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বক হলে জ্বালা বা লালচে ভাব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বেশিরভাগ মানুষই মোবাইল দেখতে দেখতে ঘাড় নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখেন ফলে যে সমস্যা হয়, তাকে বলা হয় Tech Neck।
এর ফলে ঘাড়ে আগাম ভাঁজ, স্কিন লুজ হয়ে যাওয়া, ফাইন লাইন স্পষ্ট হওয়ার মত সমস্যা দেখা যায়।
কনসালট্যান্ট ডার্মাটোলজিস্ট ডা. সুশ্রুতি মুখোপাধ্যায় বলেছেন “মোবাইল ফোন নিজে থেকে ত্বক নষ্ট করে না। কিন্তু অপরিষ্কার ফোন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও ব্লু লাইট মিলিয়ে ত্বকের সমস্যা তৈরি হয়। সঠিক স্কিন কেয়ার ও হাইজিন মানলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।”
মোবাইলের হাত থেকে কীভাবে বাঁচাবেন ত্বককে?
নিয়মিত ফোন পরিষ্কার করুন (অ্যালকোহল বেসড ওয়াইপ দিয়ে), দীর্ঘ সময় ফোনে কথা বললে হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করুন, রাতে স্ক্রিন টাইম কমান, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন,ঘরের মধ্যে থাকলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে
মোবাইলের অসচেতন ব্যবহার ধীরে ধীরে ক্ষতির কারণ হতে পারে। প্রযুক্তির সুবিধা নিন, তবে ত্বকের সুরক্ষাকে অবহেলা করবেন না।