
খাবার ঢোকাতে গিয়ে ফ্রিজ খুললেন, আর সঙ্গে সঙ্গে কেমন একটা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে এল? মুহূর্তে ভালো মুডটাই নষ্ট। এমন ঘটনা ঘটে অনেকেই সঙ্গেই। অনেকেই তখন ভাবেন— “ফ্রিজটা বোধহয় খারাপ হয়ে গেল!” আসলে কিন্তু সমস্যা যন্ত্রে নয়, অভ্যাসে। অল্প একটু অবহেলা, ফেলে রাখা আধখাওয়া তরকারি, ঢাকনা ছাড়া রাখা মাছ-মাংস— সব মিলিয়ে ফ্রিজের ভেতরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।
মজার কথা হল, এই গন্ধ তাড়াতে দামি স্প্রে বা বাজারি পরিষ্কারক দরকার নেই। রান্নাঘরেই লুকিয়ে আছে সমাধান। কয়েকটা সহজ কৌশল জানলেই ফ্রিজ আবার হয়ে উঠবে সতেজ, গন্ধহীন। ঘণ্টার পর ঘন্টা সময়ও লাগবে না।
বেকিং সোডা
একটি ছোট বাটিতে সামান্য বেকিং সোডা নিয়ে ফ্রিজের এক কোণে রেখে দিন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বেকিং সোডা গন্ধ শোষণ করতে দারুণ কার্যকর। মাসে একবার বদলে দিলেই চলবে। কোনও রাসায়নিক ঝামেলা নেই, সম্পূর্ণ নিরাপদ।
লেবু বা ভিনিগার
এক টুকরো লেবু কেটে রেখে দিতে পারেন ফ্রিজে। অথবা সামান্য ভিনিগার জলে মিশিয়ে ফ্রিজ মুছে নিন। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড ও ভিনিগারে থাকা অম্ল দুর্গন্ধের উৎসকে ভেঙে দেয়। ফলে গন্ধ শুধু চাপা পড়ে না, আসল সমস্যাই কমে যায়।
কফি গুঁড়ো বা চা পাতা
শুনতে অবাক লাগলেও, শুকনো কফি গুঁড়ো একটি খোলা পাত্রে রেখে দিলে তা গন্ধ টেনে নেয়। একইভাবে শুকনো চা পাতা ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে মাছ-মাংসের কাঁচা গন্ধ দূর করতে এই টোটকা বেশ কার্যকর।
নিয়মিত পরিষ্কার
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার করা। সপ্তাহে অন্তত একবার ভিতরের তাক ও ড্রয়ার মুছে নিন। মাসে একবার প্লাগ খুলে পুরোটা পরিষ্কার করলে আরও ভালো। আর গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রাখাই শ্রেয়— এতে আর্দ্রতা বেড়ে গন্ধ তৈরি হয়।
শুধু গন্ধ দূর করাই নয়, এই অভ্যাসগুলো ফ্রিজের আয়ুও বাড়ায়। তাই অকারণে টাকা খরচ না করে, আগে এই সহজ পদ্ধতিগুলোই ব্যবহার করে দেখুন। হয়ত কাল থেকেই ফ্রিজ খুললে আর নাক কুঁচকোতে হবে না!