
বাইরে ঝিরঝিরে হাওয়া আর মনোরম আবহাওয়া—এমন সময়ে জিভে জল আনা কোনও পদের স্বাদ নিতে কার না ভালো লাগে!গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী পদ ‘উন্ধিয়ু’ খাদ্য রসিকদের মন জয় করবেই। পুষ্টি আর স্বাদের এমন মেলবন্ধন খুব কম খাবারেই পাওয়া যায়। এক সময় এই পদটি নির্দিষ্ট কিছু সময় ছাড়া বানানো যেত না, তবে এখন বাজারজুড়ে বারোমাস সব সবজি মেলে। তাই নিজের হেঁশেল সামলাতে সামলাতে যখনই মন চাইবে, আপনিও বানিয়ে ফেলতে পারেন এই চমৎকার সাবেকি রান্নাটি।
কেন ট্রাই করবেন এই পদ?
গুজরাটি ভাষায় ‘উন্ধু’ মানে হল উল্টো। আগেকার দিনে মাটির হাঁড়িতে সবজি ভরে তা মাটির নিচে উল্টো করে রেখে আগুনের তাপে রান্না করা হতো। সেখান থেকেই এই নামের উৎপত্তি। এটি মূলত টাটকা সবজির একটি ‘মিক্সড ভেজিটেবল’ কারি। এতে যেমন প্রচুর প্রোটিন আছে, তেমনই আছে ফাইবার। যারা স্বাস্থ্যের দিকে কড়া নজর রাখেন অথচ বিস্বাদ খাবার পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য এটি একেবারে জুতসই। দুপুরের আহার হোক বা রাতের ডিনার, রুটি-পরোটার সঙ্গে এর জুরি মেলা ভার।
হাতের কাছে কী কী রাখবেন?
এই রান্নাটি করতে খুব বেশি ঝক্কি নেই। ঘরের সাধারণ সবজি আর মশলা দিয়েই এটি তৈরি করা সম্ভব। আপনার প্রয়োজন:
সর্ষে শাক: ২৫০ গ্রাম (এটি রান্নায় একটা আলাদা ঝাঁঝালো স্বাদ যোগ করে)
কড়াইশুঁটি: ১০০ গ্রাম
বেগুন ও গাজর: ১০০ গ্রাম ও ১টি বড় (ছোট ডুমো করে কাটা)
ছোলার ডাল: ৫০ গ্রাম (আগে থেকে ভিজিয়ে রাখা ভালো)
মশলাপাতি: হিং, হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো এবং নুন (স্বাদমতো)
তেল: ২ বড় চামচ
রান্নার সহজ ধাপ:
প্রথমেই সমস্ত সবজি ভালো করে ধুয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। মনে রাখবেন, সবজির আকার যত সমান হবে, রান্না তত দ্রুত সেদ্ধ হবে এবং দেখতেও দারুণ লাগবে।
কড়াইতে তেল গরম করে তাতে হিং আর হলুদ দিন। হিংয়ের কড়া সুবাস রান্নার স্বাদকে এক ধাক্কায় অনেকখানি বাড়িয়ে দেবে এবং হজমেও সহায়তা করবে।
এবার এতে কাটা সবজি আর ভেজানো ছোলার ডাল দিয়ে দিন। মশলার সঙ্গে সবজিগুলো ভালো করে মিশিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন যাতে মশলার সুগন্ধ সবজির ভেতরে ঠিকঠাক পৌঁছায়।
সামান্য জল দিয়ে কড়াই ঢাকা দিয়ে দিন। এই রান্নার আসল রহস্য হল আগুনের আঁচ। উন্ধিয়ু কখনোই চড়া আঁচে রান্না করবেন না। ধীমে আঁচে সবজি সেদ্ধ হলে তার আসল পুষ্টিগুণ ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে।
সবজি নরম হয়ে এলে ওপর থেকে লঙ্কা গুঁড়ো আর নুন ছড়িয়ে দিন। মাখা মাখা হয়ে এলে ওপর থেকে সামান্য ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
ব্যস! তৈরি আপনার ধোঁয়া ওঠা সুস্বাদু উন্ধিয়ু। বারোমাসি সবজির গুণে এখন যখন খুশি এই পদের আনন্দ নিতে পারেন। ঘরোয়া রান্নাতেও যে এমন রাজকীয় আমেজ আনা যায়, তা এই পদটি না রাঁধলে বিশ্বাস করা কঠিন।