AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

ঘরের এই জায়গায় বসে খাওয়া-দাওয়া করছেন? অর্থ কষ্ট আপনার জন্মেও পিছু ছাড়বে না!

বাস্তুশাস্ত্রে এমন কিছু নির্দিষ্ট জায়গার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বসে খাবার খাওয়া অত্যন্ত অশুভ। মনে করা হয়, এই নিষিদ্ধ স্থানগুলোতে বসে আহার করলে বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির (Negative Energy) প্রভাব বাড়ে, যার ফলে ধীরে ধীরে চরম আর্থিক অনটন ও দারিদ্র্য পরিবারকে গ্রাস করে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, বাস্তুমতে কোন কোন জায়গায় বসে খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

ঘরের এই জায়গায় বসে খাওয়া-দাওয়া করছেন? অর্থ কষ্ট আপনার জন্মেও পিছু ছাড়বে না!
| Updated on: May 16, 2026 | 5:16 PM
Share

সনাতন ধর্মে আহার বা ভোজনকে কেবল পেট ভরানোর মাধ্যম মনে করা হয় না, বরং একে একটি অত্যন্ত পবিত্র কর্ম বা ‘যজ্ঞ’ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, একজন মানুষ কোনও স্থানে এবং কেমন পরিবেশে বসে আহার গ্রহণ করছেন, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে তাঁর স্বাস্থ্য, মানসিক স্থিতি এবং আর্থিক জীবনের ওপর। বাস্তুশাস্ত্রে এমন কিছু নির্দিষ্ট জায়গার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বসে খাবার খাওয়া অত্যন্ত অশুভ। মনে করা হয়, এই নিষিদ্ধ স্থানগুলোতে বসে আহার করলে বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির (Negative Energy) প্রভাব বাড়ে, যার ফলে ধীরে ধীরে চরম আর্থিক অনটন ও দারিদ্র্য পরিবারকে গ্রাস করে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, বাস্তুমতে কোন কোন জায়গায় বসে খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

১. বিছানায় বসে খাওয়াদাওয়া আজকালকার আধুনিক জীবনযাত্রায় অনেকেই টিভি দেখতে দেখতে বা মোবাইলে মগ্ন হয়ে বিছানায় বসেই দুপুরের লাঞ্চ বা রাতের ডিনার সারেন। বাস্তুশাস্ত্রে এই অভ্যাসকে মারাত্মক ক্ষতিকর ও অশুভ বলা হয়েছে। বিছানা হল আরাম ও ঘুমনোর জায়গা, অন্যদিকে আহার হল শরীরে শক্তি সঞ্চয়ের প্রক্রিয়া। এই দুটি ভিন্ন শক্তির মিশ্রণ নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। বাস্তুমতে, বিছানায় বসে খেলে শরীরে অলসতা বৃদ্ধি পায়, মানসিক চাপ বাড়ে এবং ঘরের লক্ষ্মী চঞ্চলা হন, যার ফলে সঞ্চিত অর্থ দ্রুত শেষ হতে থাকে। স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও এই অভ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকর।

২. রান্নাঘরের চৌকাঠে বা দরজায় বসে খাওয়া বাস্তু অনুযায়ী, রান্নাঘর হলো মা অন্নপূর্ণার অধিষ্ঠান ক্ষেত্র। তাই রান্নাঘরের দরজার মুখে বা চৌকাঠে বসে আহার করা অত্যন্ত অমঙ্গলজনক। মনে করা হয়, এর ফলে সংসারের শ্রীবৃদ্ধি ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং ঘরে টাকা-পয়সা একেবারেই টেকে না। এ ছাড়া দরজার মুখে বসে খেলে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়, যা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক উত্তেজনা ও আর্থিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে।

৩. নোংরা বা ভাঙাচোরা জায়গায় বসে আহার যদি কোনও ব্যক্তি অপরিষ্কার পরিবেশ, ভাঙা আসবাবপত্র বা আবর্জনার কাছাকাছি বসে খাবার খান, তবে তা বড় বাস্তুদোষের সৃষ্টি করে। এই ধরনের নোংরা জায়গায় নেতিবাচক শক্তি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে, যা মানুষের চিন্তাভাবনা ও স্বাস্থ্যের ওপর কুপ্রভাব ফেলে। তাই আহারের স্থান সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শান্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

৪. জুতো-চপ্পলের পাশে বসে খাওয়া অনেক সময় তাড়াহুড়ো বা অসাবধানতার কারণে মানুষ এমন জায়গায় বসে খাবার খেয়ে নেন, যার পাশেই হয়তো জুতো-চপ্পল রাখা রয়েছে। শাস্ত্র মতে, এটি চরম অশুদ্ধ আচরণ। এর ফলে ধনদেবী মা লক্ষ্মী অত্যন্ত রুষ্ট হন এবং পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। আহারের সময় চারপাশের পরিবেশ পবিত্র ও ইতিবাচক রাখা জরুরি, তবেই খাদ্যের শুভ গুণাগুণ শরীরে ও জীবনে প্রতিফলিত হয়।

৫. সদর দরজা বা মেইন ডোরের সামনে বসে খাওয়া বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার বা মেইন ডোরের ঠিক সামনে বসে আহার করাকেও বাস্তুশাস্ত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ, সদর দরজা দিয়ে প্রতিনিয়ত বাইরের নানা শক্তির আদান-প্রদান ঘটে। সেখানে বসে খেলে মন অশান্ত হয়ে পড়ে এবং খাবারের ইতিবাচক প্রভাব নষ্ট হয়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভুলের কারণে পরিবারের সদস্যদের অযথা খরচ বেড়ে যায় এবং অর্থ সঞ্চয়ে বারবার বাধা আসে।

খাওয়াদাওয়ার সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখুন: বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, খাবার সবসময় শান্ত মনে এবং পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে খাওয়া সবচেয়ে শ্রেয়। আহার গ্রহণের সময় রাগ, বিতর্ক বা কোনও ধরনের নেতিবাচক আলোচনা থেকে বিরত থাকা উচিত। সঠিক নিয়ম ও উপযুক্ত স্থানে বসে অন্নগ্রহণ করলে কেবল স্বাস্থ্যই ভালো থাকে না, বরং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি, ধন-ধান্য ও পজিটিভ এনার্জির চিরস্থায়ী বাস হয়।

Follow Us