কৌটোর আঠালো ভাব দূর হচ্ছে না? শুধু সাবানে কাজ হবে না, জানুন ম্যাজিক টোটকা

রান্নাঘরে সবসময় তেল-কালি ছড়ায়। মশলার কৌটোগুলো যেহেতু আগুনের পাশেই থাকে, তাই বাষ্পীভূত তেল ধুলোবালির সঙ্গে মিশে কৌটোর গায়ে একটা শক্ত আস্তরণ তৈরি করে। সাধারণ লিকুইড সোপ এই চটচটে স্তর ভেদ করতে পারে না। ফলে ধোয়ার পরেও মনে হয় তেল থেকেই গিয়েছে।

কৌটোর আঠালো ভাব দূর হচ্ছে না? শুধু সাবানে কাজ হবে না, জানুন ম্যাজিক টোটকা

Mar 23, 2026 | 4:22 PM

রান্নাঘরের রাজত্ব যাঁদের হাতে, তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হল মশলার কৌটো। সখ করে রান্নাঘর সাজাতে সুন্দর শৌখিন কৌটো ব্যবহার করেন অনেকেই। তবে হাজার সাবান ঘষলেও যেন সেই তেলচিটে ভাবটা যেতেই চায় না। হাত দিলেই কেমন একটা আঠালো অনুভূতি, আর রান্নার সময় সেই কৌটো হাতে নিতে গেলে তো কথাই নেই— পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় ষোলো আনা! রোজ রান্নায় নুন, হলুদ বা লঙ্কার গুঁড়ো ব্যবহার করেন ঠিকই, কিন্তু দিনের শেষে অবহেলিত থেকে যায় এই কৌটোগুলোই। শুধু সাবান-জল দিয়ে ঘষলেই কি এই জেদি ময়লা পরিষ্কার হওয়া সম্ভব? মোটেই না। এর জন্য চাই বিশেষ কিছু কৌশল।

কেন সাধারণ সাবানে কাজ হয় না?

রান্নাঘরে সবসময় তেল-কালি ছড়ায়। মশলার কৌটোগুলো যেহেতু আগুনের পাশেই থাকে, তাই বাষ্পীভূত তেল ধুলোবালির সঙ্গে মিশে কৌটোর গায়ে একটা শক্ত আস্তরণ তৈরি করে। সাধারণ লিকুইড সোপ এই চটচটে স্তর ভেদ করতে পারে না। ফলে ধোয়ার পরেও মনে হয় তেল থেকেই গিয়েছে।

অনেকেই জানেন না যে, সাধারণ সাবান-জল সবসময় এই জেদি তেলচিটে ভাব তাড়াতে যথেষ্ট নয়। এর জন্য দরকার একটু স্মার্ট টেকনিক। প্রথমেই যেটা করতে পারেন, তা হল সামান্য গরম জলের ব্যবহার। মশলার কৌটোগুলো খালি করে কিছুক্ষণ ঈষদুষ্ণ জলে ডুবিয়ে রাখুন। দেখবেন, আগুনের তাপে জমাট বাঁধা তেলের স্তরটা আলগা হতে শুরু করেছে। তবে শৌখিন কাঠের কৌটো হলে এই ভুল করবেন না, কারণ বেশিক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখলে কাঠ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

গরম জলের সঙ্গে যদি কয়েক ফোঁটা লিকুইড সোপ মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে নেন, তবে কাজ হবে আরও দ্রুত। মিনিট পনেরো সেই মিশ্রণে কৌটোগুলো ভিজিয়ে রেখে নরম স্পঞ্জ দিয়ে আলতো করে ঘষুন। দেখবেন, জেদি দাগগুলো নিমেষে উধাও হচ্ছে। তবে প্লাস্টিকের কৌটোর ক্ষেত্রে খসখসে তারের জালি একেবারেই ব্যবহার করবেন না, এতে কৌটো নষ্ট হয়ে যায়।

যদি দেখেন এতেও কাজ হচ্ছে না, তবে আপনার তুরুপের তাস হতে পারে ভিনিগার। রান্নাঘরের দুর্গন্ধ আর আঠালো ভাব দূর করতে ভিনিগারের জুড়ি মেলা ভার। এক কাপ জলে ২-৩ চামচ ভিনিগার মিশিয়ে কৌটোর গায়ে মাখিয়ে ঘণ্টাখানেক ফেলে রাখুন। এরপর ভিজে কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই দেখবেন কৌটো নতুনের মতো ঝকঝক করছে।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল কৌটো ধোয়ার পর তা ভালো করে শুকনো। কৌটোর ভেতর সামান্য জল থাকলেও মশলা দলা পাকিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই শুকনো কাপড় দিয়ে মোছার পর সম্ভব হলে কিছুক্ষণ রোদে দিন। এতে জীবাণুও মরবে আর মশলাও থাকবে তাজা। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিয়ম করে পরিষ্কার করলে আপনার রান্নাঘর থাকবে একদম টিপটপ। আর নষ্ট হবে না আপনার সাধের কৌটো।

Follow Us