
দীর্ঘ এক মাসের সংযম শেষে খুশির ঈদ কড়া নাড়ছে দরজায়। ইদের সকাল মানেই তো চারদিকে উৎসবের আমেজ, নতুন জামা আর রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা ধোঁয়া ওঠা সেমাই কিংবা ফিরনির মনমাতানো গন্ধ। লাচ্ছা থেকে শুরু করে বিরিয়ানি কিংবা মোগলাই খানাপিনার এমন এলাহি আয়োজন দেখে জিভে জল আসাটাই স্বাভাবিক। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, টানা এক মাস রোজা রাখার পর শরীরের পরিপাকতন্ত্র একটি নির্দিষ্ট নিয়মে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় হুট করে ইদের দিন সকাল থেকেই যদি তেল-মশলাযুক্ত ভারী খাবার আর অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া হয়, তবে শরীরের বারোটা বাজতে কিন্তু বিশেষ সময় লাগে না। হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে ক্লান্তি অসতর্কতায় আনন্দ মাটি হয়ে যেতে পারে মুহূর্তেই। তাই খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়াটাও সমান জরুরি। উৎসবের আমেজ বজায় রেখেও কীভাবে সুস্বাদু অথচ স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে সাজানো যায় ইদের টেবিল, আসুন দেখে নেওয়া যাক।
ইদের নামাজ থেকে ফিরেই অনেকেই সাধারণত মিষ্টিমুখ করেন। চেষ্টা করুন অতিরিক্ত চিনি বা কড়া পাকের মিষ্টির বদলে ফলের রস বা দই দিয়ে তৈরি কোনও পানীয় দিয়ে শুরু করতে। এতে শরীরের জলশূন্যতা দূর হবে এবং পাকস্থলী পরবর্তী ভারী খাবারের জন্য প্রস্তুত হবে।
ঈদের মেনুতে বিরিয়ানি থাকবে না, তা তো হতেই পারে না! তবে পুষ্টিবিদদের মতে, প্লেট সাজানোর সময় কিছুটা চতুরতা অবলম্বন করা জরুরি। যদি এক কাপ চালের পদ নেন, তবে তার সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে স্যালাড আর টক দই রাখার চেষ্টা করুন। স্যালাডের ফাইবার হজমে সাহায্য করবে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
রান্নায় ডালডা বা অতিরিক্ত তেলের বদলে অলিভ অয়েল বা সানফ্লাওয়ার অয়েল ব্যবহারের চেষ্টা করা যেতে পারে। চিনির পরিবর্তে মিষ্টি তৈরিতে খেজুর বা গুড়ের ব্যবহার স্বাদ যেমন বাড়ায়, তেমনই তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। মাংস রান্নার সময় চর্বি ছেঁটে ফেললে ক্যালোরি অনেকটা কমানো সম্ভব।
একই সঙ্গে অনেকটা খাবার না খেয়ে ছোট ছোট বিরতিতে খাওয়ার অভ্যাস করুন। আর সবচেয়ে জরুরি হল জল। মিষ্টিজাতীয় পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকসের বদলে লেবু জল বা ডাবের জল বেছে নিন। এটি শরীরকে সতেজ রাখবে এবং হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।