শিশুকে নিয়ে আকাশপথে ভ্রমণ করবেন ভাবছেন? ভয় না পেয়ে মেনে চলুন সতর্কতা

ভ্রমণের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হল গুছিয়ে নেওয়া প্রস্তুতি। একটি পরিপাটি ডায়াপার ব্যাগে অবশ্যই রাখতে হবে অতিরিক্ত পোশাক, ডায়াপার, ভেজা টিস্যু, শিশুখাদ্য, বোতল, জল এবং প্রিয় খেলনা। অনেকেই ভাবেন স্ট্রলার বা বেবি ক্যারিয়ার বাড়তি ঝামেলা, কিন্তু বিমানবন্দর এবং বোর্ডিংয়ের সময় এগুলির ভীষণভাবে প্রয়োজন হয়। উড়ানের আগে শিশুর আরামদায়ক ভানে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে নিয়ে আকাশপথে ভ্রমণ করবেন ভাবছেন? ভয় না পেয়ে মেনে চলুন সতর্কতা
Image Credit source: AI

Feb 10, 2026 | 5:03 PM

শিশুকে নিয়ে প্রথমবার প্লেনে ওঠার কথা ভাবলেই অনেক বাবা-মায়ের মনে দুশ্চিন্তা জমে ওঠে। যদি সে কাঁদে? যদি সহযাত্রীরা বিরক্ত হন? যদি মাঝ আকাশে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে? এই সব আশঙ্কা প্লেনে ওঠার আগেই মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু যাঁদের এই অভিজ্ঞতা একবার হয়েছে, তাঁদের মতে বাচ্চা নিয়ে ফ্লাইটে ভ্রমণ করা যতটা ভয়ানক মনে হয়, বাস্তবে বিষয়টি ততটা কঠিন নয়। ধৈর্য আর সঠিক প্রস্তুতি থাকলেই সমস্যায় পড়বেন না।

ফ্লাইটে বাচ্চাকে নিয়ে ওঠার আগে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল মানসিকভাবে তৈরি থাকা। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবেই এই প্রত্যাশা রাখা একেবারেই উচিত নয়।

কখনও শিশু শান্ত থাকবে, কখনও অস্থির হয়ে পড়বে দুটোই স্বাভাবিক। তাই পরিস্থিতি যেমনই হোক, অভিভাবকদের নিজেদের শান্ত রাখা ভীষণভাবে জরুরি।

ভ্রমণের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হল গুছিয়ে নেওয়া প্রস্তুতি। একটি পরিপাটি ডায়পার ব্যাগে অবশ্যই রাখতে হবে অতিরিক্ত পোশাক, ভেজা টিস্যু, শিশুখাদ্য, বোতল, জল এবং প্রিয় খেলনা। অনেকেই ভাবেন স্ট্রলার বা বেবি ক্যারিয়ার বাড়তি ঝামেলা, কিন্তু বিমানবন্দর এবং বোর্ডিংয়ের সময় এগুলির ভীষণভাবে প্রয়োজন হয়। উড়ানের আগে শিশুর আরামদায়ক ভাবে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়পার বদলে নেওয়া, আরামদায়ক পোশাক পরানো এবং বিমানবন্দরে কিছুটা খেলাধুলো করিয়ে নিলে অনেক সময় পুরো যাত্রা আরও সহজ হয়ে যায়। শিশু যদি ঘুমিয়ে পড়ে, তবে চিন্তা কমবে।

খাওয়ানোর বিষয়টিও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বিমান উড়ান ও অবতরণের সময় স্তন্যপান বা বোতলে দুধ খাওয়ালে কানের চাপ লাগার অনুভব কম হয় এবং শিশু তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে থাকে। অচেনা পরিবেশে শিশুরা প্রায়ই নিরাপত্তা খোঁজে এই সময় মায়ের কাছেই তারা সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পায়। প্রয়োজনে কেবিন ক্রু বা সহযাত্রীদের সাহায্য নিতে দ্বিধাবোধ করবেন না। অধিকাংশ মানুষই সহানুভূতিশীল ও সহযোগী হন।

টডলার বয়সে ভ্রমণ একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং, কারণ তারা চারপাশের সব কিছু ছুঁতে চায়, সিটের পকেট থেকে কাগজ বের করে, নতুন কিছু নিয়ে খেলতে চায়। যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুর আচরণে কারও ক্ষতি হচ্ছে না, ততক্ষণ তাকে কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়াই ভাল। অকারণে বাধা দিলে অস্থিরতা আরও বেড়ে যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত এই ভ্রমণগুলিই একদিন স্মৃতিতে পরিণত হবে। তাই ভয় না পেয়ে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে বাচ্চাকে নিয়ে উঠতেই পারেন প্লেনে।