
কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের হাসানোর জন্য আলাদা কোনও জোকসের প্রয়োজন হয় না। বন্ধুদের আড্ডায় হোক বা অফিসের লাঞ্চ ব্রেকে- কথায় কথায় হেসে লুটোপুটি খাওয়া তাঁদের স্বভাব। অনেকে হয়তো একে ‘খ্যাপামি’ বলে মশকরা করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, এই অভ্যাসই আসলে তাঁদের দীর্ঘায়ুর মহৌষধ। হাসির দমকে যখন আপনার পেট খিলখিল করে ওঠে, তখন শরীরের অন্দরে ঘটে যায় একগুচ্ছ ম্যাজিক। জানেন কী কী ঘটে?
পেশির ব্যায়াম
আপনি যখন প্রাণ খুলে হাসেন, তখন আপনার শরীরের শক্ত হয়ে থাকা পেশিগুলো শিথিল হতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হাসির সময় শরীরে বিশেষ কিছু রাসায়নিক নির্গত হয় যা প্রাকৃতিক ‘পেইনকিলার’ হিসেবে কাজ করে। ফলে শরীরের দীর্ঘদিনের কোনও ব্যথা বা যন্ত্রণার ক্ষেত্রে আপনার সহ্যশক্তি এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। যারা একটু বেশি হাসেন, তাঁদের শারীরিক জড়তাও অন্যদের তুলনায় কম থাকে।
হার্টের জন্য উপকারী
কথায় কথায় হাসলে হার্ট বা হৃদপিণ্ড সবথেকে বেশি উপকৃত হয়। হাসির ফলে রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয় এবং রক্ত সঞ্চালন বা ব্লাড সার্কুলেশন অনেক মসৃণ হয়। এর ফলে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের সম্ভাবনা কয়েক গুণ কমে যায়। মূলত, হাসি আপনার হৃদপিণ্ডকে এক ধরণের অদৃশ্য সুরক্ষা কবচ দেয়।
স্মৃতিশক্তির উন্নতি
হাসি কেবল ঠোঁটের ব্যায়াম নয়, এটি মস্তিষ্কের জন্যও দারুণ কার্যকর। হাসলে মস্তিষ্কে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ কমে যায়, ফলে মানসিক চাপ বা অবসাদ আপনার ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আপনার স্মৃতিশক্তির ওপর। যারা হাসিখুশি থাকেন, তাঁদের মনে রাখার ক্ষমতা এবং কাজে মনোযোগ অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে বলে প্রমাণ পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মেদ ঝরানোর সহজ উপায়
জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতে যাদের অনীহা, তাঁদের জন্য হাসি হতে পারে সেরা বিকল্প। সমীক্ষা বলছে, টানা এক মিনিট প্রাণ খুলে হাসলে শরীরে যে পরিমাণ ক্যালোরি পোড়ে, তা প্রায় দশ মিনিট ঘাম ঝরিয়ে শরীরচর্চা করার সমান। হাসির ফলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
অ্যান্টিবডির রক্ষাকবচ
যাঁরা কথায় কথায় হাসেন, তাঁদের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। লাফিং থেরাপির মাধ্যমে শরীরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা বাইরের রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরকে প্রস্তুত রাখে। এছাড়া রাতে যাদের অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য হাসি হল সেরা ঘুমের ওষুধ।
তাই পরের বার যখন কেউ আপনার হাসি দেখে অবাক হবে, তাঁদের জানিয়ে দিন-আপনি আসলে অকারণে নয়, নিজের আয়ু বাড়াতে হাসছেন।