
ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচু শাক হোক কিংবা ভাজা- বাঙালির হেঁশেলে এই পদের কদর চিরকাল। অনেকে আবার এই শাককে ‘গরিবের খাদ্য’ বলে অবজ্ঞা করেন। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, সাধারণ দেখতে এই সবুজ পাতাই আসলে পুষ্টির ‘পাওয়ার হাউস’। কেবল স্বাদে নয়, গুণেও এটি টেক্কা দিতে পারে নামী-দামি বিদেশি সুপারফুডকে। জানেন কী কী পুষ্টিগুণ কয়েছে এই শাকে?
আজকালকার অনিয়মিত জীবনযাত্রায় কোলেস্টেরল যেন ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, কচু শাক নিয়মিত খেলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এর ফাইবার শরীরের অতিরিক্ত চর্বি শোষণে বাধা দেয়। ফলে রক্তনালীতে ময়লা জমতে পারে না, আর আপনার হার্টকে রাখে একদম ফিট।
শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি, মরণব্যাধি ক্যানসার রুখে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এই সাধারণ শাকের। বিশেষ করে কোলন ক্যানসার এবং ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কচু শাক দারুণ কার্যকরী। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করে, যা ক্যানসার প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
যাঁরা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন, বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলারা, তাঁদের জন্য কচু শাক বেশ উপকারী। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন এবং ভিটামিন বি। শরীর থেকে ক্লান্তি দূর করতে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে এর জুড়ি মেলা ভার। শুধু তাই নয়, এর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড়কে মজবুত করে, ফলে বয়সকালে গাঁটে ব্যথার সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
কিডনিতে স্টোনের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। নিয়মিত কচু শাক খেলে কিডনি পরিষ্কার থাকে। পাশাপাশি, এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় বহুগুণ।
অনেকেই গলা চুলকানোর ভয়ে কচু শাক এড়িয়ে চলেন। রান্নার সময় বা খাওয়ার সময় সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিলেই আর সমস্যায় পরবেন না। নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন কচুর শাক। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড কচুর ক্যালসিয়াম অক্সালেটকে ভেঙে দেয়, ফলে গলা ধরার আর কোনো ভয় থাকে না।