বাচ্চাদেরও হয় হিটস্ট্রোক! এই লক্ষণ দেখলে সতর্ক হন

আপনার চঞ্চল শিশুটি কি আচমকা খেলাধুলো ছেড়ে এককোণে চুপচাপ বসে থাকছে? প্রবল গরমে শরীর থেকে জল ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে গেলে শিশুরা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। যদি দেখেন সে অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত বোধ করছে বা কথা বলতে চাইছে না, তবে বুঝবেন তার শরীর গরমে আর সায় দিচ্ছে না। অবিলম্বে তাকে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যান এবং জল বা ওআরএস (ORS) খাওয়ান।

বাচ্চাদেরও হয় হিটস্ট্রোক! এই লক্ষণ দেখলে সতর্ক হন

Mar 12, 2026 | 5:42 PM

আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে! দিল্লি থেকে মুম্বই, আর আমাদের তিলোত্তমা কলকাতাও বাদ নেই—দেশজুড়ে তাপমাত্রার পারদ এখন আকাশছোঁয়া।গরমকালে তাপমাত্রার পারদ যে কতটা বাড়তে পারে তা এখন থেকেই আন্দাজ করা যাচ্ছে। বড়রাই যেখানে নাজেহাল, সেখানে বাড়ির খুদে সদস্যদের অবস্থা আরও শোচনীয়। চিকিৎসকরা বলছেন, বড়দের তুলনায় শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অনেকটাই আলাদা। ফলে ডিহাইড্রেশন বা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি ওদের অনেক বেশি। কিন্তু মুশকিল হল, ছোটরা সবসময় মুখে বলতে পারে না যে তাদের কষ্ট হচ্ছে। তাই বাবা-মা হিসেবে আপনাকে চিনে নিতে হবে সেই সতর্কবার্তাগুলো, যা বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কী কী লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?

হঠাৎ ঝিমিয়ে পড়া বা প্রচণ্ড ক্লান্তি
আপনার চঞ্চল শিশুটি কি আচমকা খেলাধুলো ছেড়ে এককোণে চুপচাপ বসে থাকছে? প্রবল গরমে শরীর থেকে জল ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে গেলে শিশুরা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। যদি দেখেন সে অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত বোধ করছে বা কথা বলতে চাইছে না, তবে বুঝবেন তার শরীর গরমে আর সায় দিচ্ছে না। অবিলম্বে তাকে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে যান এবং জল বা ওআরএস (ORS) খাওয়ান।

মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা
গরমের কারণে রক্তচাপের হেরফের হতে পারে। শিশু যদি বলে তার মাথা টিপটিপ করছে বা উঠে দাঁড়ালে অসুবিধা হচ্ছে পা টলছে, তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেবেন না। এটি  তাপজনিত অবসাদের প্রাথমিক ধাপ। ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া এবং পর্যাপ্ত জলই এর প্রাথমিক প্রতিকার।

খিদে কমে যাওয়া ও বমি ভাব
অতিরিক্ত গরমে নিজেকে ঠান্ডা রাখতে শরীরের সমস্ত শক্তি ব্যয় হয়। এর ফলে হজমপ্রক্রিয়া সাময়িকভাবে শ্লথ হয়ে পড়ে। শিশু যদি খাবার খেতে অনীহা প্রকাশ করে কিংবা পেট খারাপ বা বমির সমস্যা দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে শরীর প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে গিয়েছে।

গায়ের চামড়া শুকনো ও লালচে হয়ে যাওয়া
শিশুর শরীরের দিকে নজর রাখুন। যদি দেখেন তার ত্বক অস্বাভাবিক লাল হয়ে গিয়েছে বা গা পুড়ে যাচ্ছে অথচ ঘাম হচ্ছে না, তবে পরিস্থিতি গুরুতর। চামড়া খসখসে বা শুকনো হয়ে যাওয়া মানে শরীরে জলের অভাব দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ এটি হিটস্ট্রোকের পূর্বাভাস হতে পারে।

মেজাজ হারানো বা খিটখিটে ব্যবহার
অনেক সময় ছোটরা শারীরিক অস্বস্তি বুঝতে না পেরে খিটখিটে হয়ে যায়। অকারণ কান্না, জেদ বা অস্থিরতা কিন্তু ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। মনোনিবেশ করতে না পারা বা অস্বাভাবিক চুপচাপ হয়ে যাওয়াও ভালো লক্ষণ নয়।

কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়টাতে শিশুদের হালকা সুতির পোশাক পরানো এবং বেলা বাড়লে রোদে বেরোতে না দেওয়া সবচেয়ে ভালো। প্রচুর পরিমাণে জল, ডাবের জল বা টাটকা ফলের রস খাওয়ান। মনে রাখবেন, ছোটদের শরীরের অবস্থা খুব দ্রুত খারাপ হতে পারে, তাই সামান্য উপসর্গ দেখলেই সতর্ক হন, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Follow Us