AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Chutney History: চাটনি বাঙালির প্রিয় হলেও, চাটনির আবিষ্কার কিন্তু বাঙালির হাতে নয়! আসল গল্পটা জানেন?

Traditional Bengali Food: বাঙালির পাত পাড়ার শেষেই হাজির হয় এই জাদুকরী পদ। তবে চাটনিকে কেবলই একটি সাধারণ 'সাইড ডিশ' বা মুখরোচক হিসেবে দেখলে ভুল হবে। কারণ, বাঙালির রান্নাঘরে চাটনির অবস্থান যতটা সুস্বাদু, এর ইতিহাস ও রন্ধনবিজ্ঞান ততটাই গভীর।

Chutney History: চাটনি বাঙালির প্রিয় হলেও, চাটনির আবিষ্কার কিন্তু বাঙালির হাতে নয়! আসল গল্পটা জানেন?
| Updated on: Sep 28, 2026 | 7:01 PM
Share

ভোজের শেষ পাতে একহাতা টক-মিষ্টি চাটনি আর মচমচে পাপড় না পড়লে যেন পুরো খাওয়াটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে রবিবারের পারিবারিক মধ্যাহ্নভোজ—বাঙালির পাত পাড়ার শেষেই হাজির হয় এই জাদুকরী পদ। তবে চাটনিকে কেবলই একটি সাধারণ ‘সাইড ডিশ’ বা মুখরোচক হিসেবে দেখলে ভুল হবে। কারণ, বাঙালির রান্নাঘরে চাটনির অবস্থান যতটা সুস্বাদু, এর ইতিহাস ও রন্ধনবিজ্ঞান ততটাই গভীর।

‘চাটনি’ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ ‘চাটনা’ থেকে, যার সহজ অর্থ চেটে খাওয়া। ইতিহাস বলে, প্রাচীন ভারতে বিভিন্ন ফল, ভেষজ উপাদান, মশলা ও তেঁতুল একসঙ্গে পিষে হজমকারক হিসেবে খাওয়ার চল ছিল। তবে আধুনিক বাঙালি পাতে মিষ্টি চাটনির যে রূপ আমরা দেখি, তার রূপান্তরে ব্রিটিশদেরও একটি ভূমিকা ছিল। ঔপনিবেশিক আমলে ভারতীয় মশলা ও টক-মিষ্টি স্বাদের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন সাহেবরা। তাঁরাই আম, তেঁতুল ও চালতার সঙ্গে চিনি বা গুড় জ্বাল দিয়ে তৈরি চাটনিকে বোতলজাত করে বিশ্বজুড়ে ‘Chutney’ নামে পরিচিত করে তোলেন।

বাঙালি ভোজে পঞ্চব্যঞ্জনের শেষে চাটনি পরিবেশনের পেছনে রয়েছে এক চমৎকার রন্ধনবিজ্ঞান। ডাল, মাছ, মাংস এবং নানা ধরনের তেল-মশলাযুক্ত গুরুপাক খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলীকে শান্ত করতেই শেষ পাতে টক-মিষ্টির ছোঁয়া দেওয়া হয় ।চাটনিতে ব্যবহৃত তেঁতুল, কাঁচা আম, টমেটো, আলুবোখরা বা আমসত্ত্বের মতো অম্লীয় (Acidic) উপাদান এবং পাঁচফোড়ন, সর্ষে ও বিটনুনের মতো মশলা লালা রস ও পরিপাক রস নিঃসরণে সাহায্য করে, যা ভারী খাবার দ্রুত হজম করায়।

মুখের ভেতরে জমা গুরুপাক খাবারের তেলতেলে ভাব বা মশলাদার স্বাদ দূর করে একধরনের সতেজ অনুভূতি এনে দেয় এই শেষ পাত। বাঙালির চাটনি বানানোর ক্যারিশমা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। গরমকালে কাঁচা আমের পাতলা জোল বা প্লাস্টিক চাটনি (পেঁপে দিয়ে তৈরি), বর্ষায় চালতা বা তেঁতুলের টক, আর শীতকালে টাটকা টমেটো, খেজুরি ও আমসত্ত্বের গাঢ় চাটনি—প্রতিটি ঋতুরই রয়েছে নিজস্ব বিশেষত্ব। এমনকী, আনারস, কুল, জলপাই কিংবা পেয়ারা দিয়েও বাঙালি চমৎকার সব চাটনি তৈরি করে নেয়।

তাই পরের বার শেষ পাতে জিভে জল আনা চাটনিতে চামচ দেওয়ার সময় মনে রাখবেন—এটি কেবল পাতে শেষ সংযোজন নয়, বরং শত বছরের ঐতিহ্য ও সুচতুর রন্ধনবিজ্ঞানের এক অনবদ্য মেলবন্ধন!

Follow Us