
ইলেক্ট্রিক বিল নাজেহাল করে গরমে। কিন্তু বিলের চাপে আপনি শীতেও রয়েছেন চাপে? শীতকাল মানেই একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস। এসি বন্ধ, ফ্যানের প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবেই মনে হওয়ার কথা—বিদ্যুৎ বিল এবার কমবে। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই বলেন, শীতেও বিদ্যুৎ বিল আশানুরূপ কমছে না। প্রশ্ন উঠছে—তাহলে বিদ্যুতের বিল বাড়ছে কেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার মূল কারণ এসি বা ফ্রিজ নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস, যেগুলো আমরা প্রায় নজরই দিই না।
শীতকালে টিভি, সেট-টপ বক্স, মাইক্রোওভেন, ওয়াই-ফাই রাউটার ব্যবহার বন্ধ হয় না। কিন্তু সুইচ অফ করলেও প্লাগ খুলে না রাখলে এগুলো স্ট্যান্ডবাই মোডে বিদ্যুৎ খরচ করে। আন্তর্জাতিক শক্তি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একটি বাড়ির মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৫–১০% নষ্ট হয় শুধুমাত্র স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার থেকে।
অনেকেই ভাবেন শীতে যান্ত্রিক ব্যবহার কম মানেই বিল কমবে। কিন্তু বাস্তবে পুরনো ফ্রিজ, হিটার বা গিজার ঠান্ডা আবহাওয়ায় আরও বেশি বিদ্যুৎ টানে, কারণ সেগুলোর ইনসুলেশন ও মোটর দক্ষতা কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ বছরের বেশি পুরনো ফ্রিজ নতুন ফ্রিজের তুলনায় প্রায় ৩০–৪০% বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে, শীতে ব্যতিক্রম হয় না।
শীতের হিটার ও গিজারের ব্যবহার হয়। শীতে অনেকেই মনে করেন, অল্প সময় চালালে সমস্যা নেই। কিন্তু ইলেকট্রিক হিটার ও গিজার অল্প সময়েই প্রচুর ইউনিট খরচ করে। একটি ২০০০ ওয়াটের হিটার মাত্র ১ ঘণ্টা চললেই ২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে—যা দিনে কয়েকবার হলে মাসের শেষে আসে বড় বিল।
চার্জারে ফোন লাগিয়ে রাখার অভ্যাস অনেকেরই। রাতে ঘুমানোর সময় ফোন চার্জে রেখে দেওয়া, বা চার্জ শেষ হলেও চার্জার প্লাগে লাগিয়ে রাখা—এই অভ্যাস রয়েছে ঘরে ঘরে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একটি চার্জার খালি অবস্থায় প্লাগে থাকলেও বিদ্যুৎ খরচ করে, আর বহু চার্জার থাকলে মাসের শেষে আসে বেশী বিল
কী করলে শীতে কমবে ও বৈদ্যুতিক বিল ? ব্যবহার না হলে প্লাগ খুলে রাখুন, পুরনো যন্ত্র ধীরে ধীরে এনার্জি-এফিসিয়েন্ট মডেলে বদলান, এলইডি আলো ব্যবহার করুন, রাতে চার্জার খুলে রাখার অভ্যাস করুন। সচেতন অভ্যাসই পারে অপ্রয়োজনীয় খরচ আটকাতে।