বকা খেয়ে বাচ্চা আরও অবাধ্য হচ্ছে? পরিস্থিতি সামাল দেবেন কীভাবে?
আসলে বাচ্চারা যখন ছোট থাকে, তখন তারা নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে না। তাদের কাছে রাগ বা কান্না হল নিজেদের প্রকাশ করার একমাত্র মাধ্যম। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব শিশু বকা খেলে বেশি জেদ করে, তাদের মনের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা বা ‘রিজেকশন’ কাজ করে। তাই বকাঝকার পরেও যে আপনি তাকে ভালোবাসেন, সেই আশ্বাসটা তাকে দেওয়া দরকার।

বাচ্চাদের মন ঠিক যেন কাঁচের মতো, একটু আঘাতেই ভেঙে চুরমার। অনেক সময় দেখা যায়, সন্তানের ভালোর জন্যই হয়তো আপনি তাকে সামান্য বকা দিলেন, আর তাতেই সে অভিমানে মুখ কালো করে বসে রইল। কখনও আবার সেই রাগ রূপ নেয় প্রচণ্ড জেদে। বাবা-মা হিসেবে তখন অনেকেই দ্বন্দ্বে পড়ে যান— বকা দেওয়া কি তবে ভুল হল? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাসন তো প্রয়োজন বটেই, তবে শাসনের পর বাচ্চার অভিমান ভাঙানো এবং তাকে সঠিক দিশা দেখানোটাও সমান জরুরি। আদরের সোনামণির জেদ কমিয়ে তাকে আবার হাসিখুশি করে তুলতে চাইলে আজই আপনার রুটিনে আনুন কিছু ছোট্ট বদল।
কেন এই রাগ?
আসলে বাচ্চারা যখন ছোট থাকে, তখন তারা নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে না। তাদের কাছে রাগ বা কান্না হল নিজেদের প্রকাশ করার একমাত্র মাধ্যম। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যেসব শিশু বকা খেলে বেশি জেদ করে, তাদের মনের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা বা ‘রিজেকশন’ কাজ করে। তাই বকাঝকার পরেও যে আপনি তাকে ভালোবাসেন, সেই আশ্বাসটা তাকে দেওয়া দরকার।
কিভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন?
বাচ্চা রেগে চিৎকার করলে বা ঘ্যানঘ্যান করলে সঙ্গে সঙ্গে আপনিও মেজাজ হারাবেন না। আপনি রেগে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাবে। বরং সেই মুহূর্তে চুপ থাকুন। আপনার নীরবতা তাকে বুঝিয়ে দেবে যে, রাগ দেখিয়ে অন্তত আপনার মনোযোগ পাওয়া যাবে না।
“এটা করবি না” বা “ওটা এখনই রাখ”— এমন সরাসরি আদেশের বদলে তার সঙ্গে আলোচনা করুন। তাকে বুঝিয়ে বলুন কেন আপনি তাকে বকা দিয়েছিলেন। শাসনের মধ্যেও যে ভালোবাসা লুকিয়ে আছে, সেটা বুঝতে পারলে বাচ্চার রাগ দ্রুত জল হয়ে যায় বলে জানাচ্ছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
রাগ বা জেদের সময় বাচ্চাকে বকা না দিয়ে বরং শান্তভাবে কাছে টেনে নিন। আলতো করে জড়িয়ে ধরুন। শরীরের স্পর্শ মনের ওপর দারুণ প্রভাব ফেলে। এতে বাচ্চার অস্থিরতা কমে এবং সে নিজেকে নিরাপদ বোধ করে।
বাচ্চার রাগ যখন তুঙ্গে, তখন সেই বিষয়টি নিয়ে আর কথা বাড়াবেন না। বরং অন্য কোনও মজার গল্প বা তার প্রিয় কোনও কাজ দিয়ে তার মনোযোগ সরিয়ে নিন। পরিস্থিতি শান্ত হলে তবেই পুরনো কথা তুলুন।
মনে রাখবেন, শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। আপনি যদি কথায় কথায় রাগ দেখান, তবে সেও সেটাই শিখবে। তাই বাচ্চার সামনে নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখাটা অত্যন্ত জরুরি।
