
বাজারে টাটকা সবুজ আর কালো আঙুর দেখে লোভ সামলানো কঠিন। কিন্তু জানেন কি, এই চকচকে আঙুরের গায়েই লেগে থাকতে পারে ক্ষতিকর রাসায়নিক? খেতে ফলন বাড়াতে এবং পোকামাকড় ঠেকাতে যে কীটনাশক ব্যবহার হয়, তা অনেক সময় ফলের গায়ে থেকেই যায়। শুধু জল দিয়ে ধুলেই কি আঙুর নিরাপদে খাওয়া যায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন,ঝুঁকির সম্ভাবনা প্রবল। কেন আঙুরে বেশি ঝুঁকি?
আঙুরের খোসা পাতলা, আর ফলগুলো গুচ্ছ আকারে থাকে। ফলে স্প্রে করা কীটনাশক ফাঁকে ফাঁকে জমে যায়। খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু ফলের থেকে আঙুরে কীটনাশকের পরিমান অনেকটাই বেশি। তা বলে কি নিজের প্রিয় ফল খাবেন না? সতর্কতা মানলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। শুধু কলের জলে ধুয়ে নিলেই সব রাসায়নিক সরে যায় না। কীভাবে পরিষ্কার করবেন আঙুর?
এক লিটার জলে এক চামচ লবণ মিশিয়ে তাতে আঙুর ১৫–২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে গায়ে লেগে থাকা জীবাণু ও রাসায়নিক দূর্বল হয়।
খাবার সোডা (বেকিং সোডা) মেশানো জলে ১০–১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে কীটনাশকের স্তর ভাঙতে সাহায্য করে—এমন তথ্য বিভিন্ন খাদ্য গবেষণায় উঠে এসেছে।
গুচ্ছ থেকে আঙুর আলাদা করে নিন। তারপর পরিষ্কার জলে ২–৩ বার ধুয়ে নিন। এতে ফাঁকে জমে থাকা ময়লা বেরিয়ে আসে।
ধোয়ার পর পরিষ্কার কাপড় বা টিস্যু দিয়ে মুছে নিলে বাড়তি আর্দ্রতা ও চলে যায়
অনেকে ফল সরাসরি ফ্রিজে তুলে রাখেন। কিন্তু না ধুয়ে ফ্রিজে রাখলে রাসায়নিক আরও ছড়াতে পারে। তাই কেনার পর প্রথমেই পরিষ্কার করা ভালো। শিশু, বয়স্ক বা অসুস্থদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
আঙুর খাওয়া বন্ধ করার দরকার নেই। বরং সঠিক পদ্ধতিতে ধুয়ে নিলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। প্রিয় ফলটি উপভোগ করুন নিশ্চিন্তে তবে সচেতনতা অবশ্যই জরুরি।